
বিগ ব্যাশে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করা রিশাদ হোসেনকে নিয়ে কাড়াকাড়ি হলো পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলামে। দুই দলের আগ্রহের পর বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনারকে ৩ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে দলে নিয়েছে রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস। বাংলাদেশি টাকার অঙ্কে যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। রিশাদ গত আসরে লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতে বল হাতে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। তার নিয়ন্ত্রিত লেগ স্পিন ও কার্যকর ভ্যারিয়েশন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন মৌসুমের আগে দলটি কৌশলগত সিদ্ধান্তে তাকে ছেড়ে দেয়। এবারের নিলামে তার নাম উঠলেও কোনো প্রস্তাব দেয়নি লাহোর। কিন্তু তাকে নিয়ে আগ্রহের ঘাটতি ছিল না। করাচি কিংস এবং রাওয়ালপিন্ডি দীর্ঘ সময় ধরে দর হাঁকাহাঁকিতে যুক্ত ছিল। দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে টানটান প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এই টাইগার লেগ স্পিনারকে দলে টানার জন্য। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যায় রাওয়ালপিন্ডি। ৩ কোটি রুপির বিনিময়ে তারা নিশ্চিত করে রিশাদকে।
এই চুক্তির মাধ্যমে পিএসএলে রিশাদের বাজারমূল্য যেমন উঁচুতে উঠল, তেমনি আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশের তরুণ স্পিন শক্তির স্বীকৃতিও স্পষ্ট হলো। সদ্য শেষ হওয়া বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়েও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন রিশাদ। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার এই ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে ১২ ম্যাচে ১৫ শিকার ধরেন তিনি। দেশের বাইরে এই দুটি লিগেই এখন পর্যন্ত খেলেছেন রিশাদ। সঙ্গে বিপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা তো আছেই। সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১০৮ ম্যাচ খেলে ১২৪ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। এদিকে নিলামের আগে সরাসরি চুক্তিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় লাহোর কালান্দার্স। ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে বাঁহাতি এই পেসারকে নিয়েছে তারা।
এদিকে রিশাদ, মোস্তাফিজ দল পেলেও অবিক্রিত থেকেছেন সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নিলামে তার নাম তোলা হলেও কেউ আগ্রহ দেখাননি। পিএসএল-১১ এর নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে করাচির এক্সপো সেন্টারে। এটি লিগ ইতিহাসে প্রথম নিলামভিত্তিক খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরুর পর প্রথম ১০টি আসর পর্যন্ত ড্রাফট পদ্ধতিতেই দল গঠন হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনে নিলাম পদ্ধতি চালু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই রূপান্তরের পেছনে রয়েছে লিগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা। নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সিয়ালকোট স্টালিয়ন এবং হায়দরাবাদ হাউস্টন কিংসমেন যোগ হওয়ায় দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটে। ঐতিহাসিক এই নিলামের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন মোট ৮৭৯ জন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার। পিসিবি তাদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে- প্লাটিনাম, ডায়মন্ড, গোল্ড, সিলভার ও এমার্জিং। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ড্রাফটের মতো নির্দিষ্ট ‘পিক অর্ডার’ না থাকায় এবার দলগুলো সরাসরি বিডিং যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। ফলে জনপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের জন্য দেখা যাচ্ছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যার অন্যতম উদাহরণ রিশাদ হোসেন।