
পরতে পরতে উত্তেজনা, ক্ষণে ক্ষণে বদলালো ম্যাচের রং। মূল ম্যাচ কখনও একদিকে, তো পরক্ষণেই অন্যদিকে হেলে শেষ পর্যন্ত হলো টাই। সুপার ওভারের চরম রোমাঞ্চেও দুই দলের মধ্যে বজায় থাকল সমতা। তবে দ্বিতীয় সুপার ওভারে আর পেরে উঠল না আফগানরা। অবিশ্বাস্য এক ইতিহাস গড়া ম্যাচে জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
জয়ের খুব কাছে গিয়েও হারের হতাশায় মাঠ ছাড়তে হলো রশিদ খানের দলকে। অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার ম্যাচে এত বেশি সুযোগ নষ্ট করার আক্ষেপে পুড়ছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান। গতকাল বুধবার আহমেদাবাদে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরেছে আফগানিস্তান। মূল ম্যাচের পর প্রথম সুপার ওভারও টাই হয়। পরে দ্বিতীয় সুপার ওভারে হারে রশিদের দল।
রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি ককের ফিফটিতে ২০ ওভারে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে আফগানিস্তান দুই বল বাকি থাকতে ওই স্কোরে অলআউট হয়ে যায়। এরপর, প্রথম সুপার ওভারে দুই দলই করে ১৭ রান করে। সবশেষে, দ্বিতীয় সুপার ওভারে প্রোটিয়ারা ২৩ রান করার পর, ১৯ রানে থেমে যায় আফগানরা। মূল ম্যাচে কঠিন সমীকরণ ‘সহজ’ হয়ে এসেছিল। ফ্রি হিটসহ শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল দুই রান। ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ফাজালহাক ফারুকি।
টাই হয়ে যায় ম্যাচ। প্রথম সুপার ওভারের শেষ বলে ফারুকিকে ছক্কা মেরে টাই করেন ট্রিস্টান স্টাবস। একেবারে নিজের জোনে বল পেয়েছিলেন তিনি।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে শেষ বলে টাই করতে ৪ রান প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের। আগের তিন বলে ছক্কা হাঁকানো রাহমানউল্লাহ গুরবাজ শেষটায় আর পারেননি। আউট হয়ে যান তিনি। সব মিলিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাশিদের কণ্ঠে ঝরল হতাশা। ‘আমরা রান তাড়ার সেরা সুযোগই পেয়েছিলাম। কিন্তু একটুর জন্য পারিনি শেষ সুপার ওভারে আমার মনে হয়, তিন ছক্কা মেরেছে (গুরবাজ), শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৫ রান, খুব কাছেই ছিলাম। সুপার ওভারেও আমাদের সামনে সুযোগ ছিল। এমনকি শেষ সুপার ওভারেও ১ বলে ৫ রান প্রয়োজন ছিল, এটা যেকোনো দিকেই যেতে পারত। আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম। ব্যাটিংয়ে আরেকটু স্মার্ট হতে পারতাম। আমি মনে করি, আমাদের জন্য এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’
ম্যাচের ফল নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও, মাঠে দলের নিবেদনে সন্তুষ্ট রশিদ।
নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তারা। ‘তবে আমি মনে করি, সার্বিকভাবে আমরা মাঠে নিজেদের পুরোটা দিয়েছি। আর ফলের কথা বললে, আমরা সঠিক ফল পাইনি।’ বড় রান দেখে ভড়কে যাননি রশিদরা। আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে জয়ের আশা নিয়েই ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তারা। ‘রান তাড়ার সময় আমাদের ভাবনায় ছিল, এটা ভালো উইকেট। এই উইকেটে আমরা আইপিএলে প্রচুর ম্যাচ খেলি।
এখানে গড় রান ১৯০-১৯৫। ‘দলের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল যে, হ্যাঁ, ওরা ভালো একটা শুরু পেয়েছে। তবে শেষ ১০ ওভারে নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করি এবং যতটা সম্ভব ভালো বোলিং করি, আর ওদের দুইশ রানের নিচে থামাই।’ বোলিংয়ে লক্ষ্য পূরণ করলেও, সম্ভাবনা জাগিয়ে ব্যাটিংয়ে বাকিটা সারতে না পারায় টানা দ্বিতীয় হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন রশিদরা।