
না এবারও নতুন কাউকে পাওয়া গেল না। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে দেখা মিলল সেই পুরোনো আধিপত্য! ট্র্যাকের লাল রাস্তায় গতি, অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাস মিলিয়ে দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দুই অভিজ্ঞ মুখ হয়ে উঠলেন ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। একজন নিজের আধিপত্য আরও দৃঢ় করলেন, অন্যজন ফিরে পেলেন হারানো সিংহাসন। গতকাল রোববার শুরু হওয়া জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে লন্ডনপ্রবাসী ইমরানুর রহমান শুরু থেকেই ছিলেন আলাদা। স্টার্টিং ব্লক থেকে বের হওয়ার পর বাকি প্রতিযোগীদের সঙ্গে তার ব্যবধান ধীরে ধীরে এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে শেষ কয়েক মিটারেই বোঝা যাচ্ছিল, ফল বদলানোর সুযোগ নেই। ১০ দশমিক ৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে আবারও বাংলাদেশের দ্রুততম মানবের খেতাব নিজের করে নেন তিনি।
জাতীয় ও সামার অ্যাথলেটিকস মিলিয়ে এটি ইমরানুরের ষষ্ঠ শিরোপা। গত আসরের তুলনায় এবার নিজের টাইমিংয়েরও উন্নতি করেছেন তিনি। তবে এখনও ছুঁতে পারেননি ২০২২ সালে গড়া নিজের ব্যক্তিগত সেরা ১০ দশমিক ২৯ সেকেন্ডের রেকর্ড। তবু দেশের ট্র্যাকে তার আধিপত্যে যে ভাটা পড়েনি, সেটি আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। ইমরানুরের পেছনে লড়াইটা ছিল মূলত দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়ার। নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইল ১০ দশমিক ৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন। বিমানবাহিনীর নাঈম ইসলাম ১০ দশমিক ৯১ সেকেন্ডে শেষ করে তৃতীয় স্থান দখল করেন। কিন্তু পুরো ইভেন্টে আলোটা ছিল একাই ইমরানুরের দিকে।
তবে দিনের সবচেয়ে আবেগঘন গল্পটা লেখা হয়েছে মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে। গত বছর সামার অ্যাথলেটিকসে সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে দ্রুততম মানবীর মুকুট হারানোর পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো শিরিন আক্তারের সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু অভিজ্ঞ এই স্প্রিন্টার যেন অপেক্ষায় ছিলেন জবাব দেওয়ার। সেই জবাব তিনি দিলেন ট্র্যাকেই।
১২ দশমিক ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে আবারও দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব পুনরুদ্ধার করলেন শিরিন। শুধু জেতাই নয়, এটি তার ক্যারিয়ারের রেকর্ড ১৭তম জাতীয় সাফল্য। বয়স, অভিজ্ঞতা কিংবা নতুনদের চ্যালেঞ্জ-কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি! যদিও নিজের সেরা টাইমিং ১১ দশমিক ৯৫ সেকেন্ড স্পর্শ করতে পারেননি তিনি, তবু তার দৌড়ে ছিল পুরোনো আত্মবিশ্বাসের ঝলক। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বাকিদের থেকে পরিষ্কার ব্যবধানে ফিনিশ করেন শিরিন। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন সুমাইয়া দেওয়ানের দিনটা ছিল হতাশার। ১২ দশমিক ৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি শেষ করেন চতুর্থ হয়ে।