
দীর্ঘ ১৫ বছর পর দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া। বহুল প্রতীক্ষিত এই সিরিজকে সামনে রেখে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরলেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসছিলেন এই অলরাউন্ডার। জাতীয় দলে ফেরার দুয়ারে কড়াও নেড়েছে নানা সময়ে। কিন্তু দুয়ার খুলছিল না। অবশেষে সেই সুযোগটি এলো তার সামনে। মোসাদ্দেকের পাশাপাশি ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহানও। সবশেষ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ফেরানো হয়েছিল তানজিম হাসানকে। তাকে নিয়ে স্কোয়াড ছিল ১৬ জনের। তবে চোটের কারণে এখন লম্বা সময়ের জন্য মাঠে বাইরে ছিটকে পড়েছেন এই পেসার।
মোসাদ্দেকের সুযোগ না পাওয়া নিয়ে দেশের ক্রিকেটে আলোচনা অনেক দিনের। মাঠের বাইরের কোনো সমস্যা আছে কি না, এই প্রশ্নও উঠেছে বারবার। কারণ মাঠের ক্রিকেটে একদিনের ম্যাচের সংস্করণে ব্যাটে-বলে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন তিনি বেশ অনেকবারই। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে আবাহনী লিমিটেডকে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে রান করেছিলেন ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৭। ওভারপ্রতি মাত্র ৪.০৪ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছিলেন ৩০টি, যা ছিল যৌথভাবে লিগের সর্বোচ্চ। গত এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডের আগে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে তাকে ঢাকায় উড়িয়ে আনা হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, তাকে ফেরানো হবে স্কোয়াডে। কিন্তু রহস্যময় কারণে তা হয়নি। এরপর তিনি ঝড় তুলেছেন এবারের ঢাকা লিগেও। আবাহনীর হয়ে এখনও পর্যন্ত ৬ ইনিংসে তার রান ৭৭.৫০ গড়ে ৩১০। স্ট্রাইক রেটও অসাধারণ, ১২৯.১৬। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ১২টি। রান জোয়ারের আসরেও ওভারপ্রতি দিয়েছেন মোটে ৩.৭৪ রান।মোসাদ্দেককে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন আফিফ। সবশেষ ১৭ ওয়ানডেতে তার ফিফটি নেই। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ওয়ানডেতে খেলেও ৩০ ছুঁতে পারেননি একবারও। এরপর পাকিস্তান সিরিজে দুই ইনিংস ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ইনিংস খেলেও ভালো করতে পারেননি।
মোসাদ্দেককে নেওয়া ও আফিফকে দলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। ‘আফিফকেও যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছি, আমি বলতে পারব না। আরেকটু বেশি পেতে পারতো সে।তবে এই মুহূর্তে আমরা কিছু ট্যাকটিক্যাল বদল করেছি। মোসাদ্দেককে আমরা চিন্তা করছি, যেখানে আফিফ ব্যাটিং করে ছয় নম্বরে, সেখানে মোসাদ্দেক এই মুহূর্তে খুব ভালো ব্যাটিং করছে এবং এই পজিশনে তার স্কিল লেভেলটা আরও বেশি কাজে লাগবে আমাদের জন্য। সে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আগেও খেলেছে এবং প্রিমিয়ার লিগে খুব ভালো ফর্মে আছে এবং পাশাপাশি অলরাউন্ড সামর্থ্যও আমরা কাজে লাগাতে পারব। তিনি যদি আসেন, আমাদের ভারসাম্য আরও একটু ভালো হয়। আমরা পাঁচজন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলি। ছয় নম্বরে বোলালের একটু অভাব অনুভূত করি। আমার মনে হয় মোসাদ্দেক সেই কাজটা খুব ভালোমতো করতে পারবে।’
সোহানের দলে ফেরা কিছুটা বিস্ময়করই। সবশেষ খেলেছেন তিনি ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ওই সিরিজে ভালো করতে পারেননি। এবারের ঢাকা লিগে ৮ ইনিংসে ফিফটি করেছেন মোটে একটি। তাকে জায়গা দিতে বাদ পড়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে সম্ভাবনার ছাপ রেখেছিলেন কিছুুটা। চলতি ঢাকা লিগে ৮ ইনিংসে ৭৮.৮০ গড়ে রান করেছেন ৩৯৪, যা এখনও পর্যন্ত চতুর্থ সর্বোচ্চ।
এই পরিবর্তনের কারণও তুলে ধরলেন প্রধান নির্বাচক। ‘মাহিদুল অঙ্কনের জায়গায় নুরুল হাসান সোহানকে আমরা এনেছি। এর পেছনে একটা বড় কারণ হচ্ছে হলো, অঙ্কনকে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এবং প্রিমিয়ার লিগে টপ অর্ডারে ব্যাটসম্যান। নাম্বার চার, পাঁচ, সেখানে তিনি ব্যাটিং করেন। সোহান ব্যাটিং করেন ছয়-সাতে। আমরা আসলে উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান চিন্তা করছি, সে হয়তো ছয় বা সাতে ব্যাটিং করবে। সেই জায়গাতে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে অঙ্কনের থেকে সোহান বেশি স্কিলফুল। সোহানের স্কিলটা বেশি কাজে লাগবে। এইজন্য আসলে এই পরিবর্তনটা করা।’
আগাশী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া দল ঢাকায় পা রাখবে। প্রথম দুই ওয়ানডে ম্যাচ আগামী মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার, মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ারম। খেলা শুর সকাল ১১টায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে দল
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা