
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এর ফলে আগামী রোববার নির্বাচনে ভোটগ্রহণে কোনো আইনি বাধা থাকলা না বলে দাবি বিসিবির আইনজীবীর। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও মো. শফিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবির পক্ষে ছিলেন মাহিন এম রহমান।
মাহিন এম রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার আংশিক শুনানির পর গতকাল বুধবার হাই কোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে বিসিবির চলমান কার্যক্রম এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। তিন জানান, বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে এর আগে দায়ের করা তিনটি রিট আবেদনেও আদালত হস্তক্ষেপ করেনি।
এর আগে গত ৬ মে সাধারণ পরিষদ গঠন এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সাধারণ পরিষদে ‘কাউন্সিলর’-এর নাম মনোনয়নের জন্য বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি (জেলা প্রশাসক) বরাবর চিঠি পাঠান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এ চিঠি প্রত্যাহার ও নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে ১৮ মে রিটটি করা হয়। আরমানুল ইসলাম নয়নসহ ছয়জন আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। বিসিবির সাধারণ কাউন্সিলে ২০২৫-২৯ মেয়াদের জন্য যথাযথভাবে কাউন্সিলর হিসেবে তারা মনোনীত/নিযুক্ত হয়েছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
গত ১৩ মে গঠিত নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই সদস্য গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক এবং সহকারী সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।
১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬-এর তফসিল ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ৭ জুন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন এবং সেদিন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনার। গত ১৭ মে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনয়নেও দুজন পরিচালক হবেন। ২৫ পরিচালকের ভোটে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। গত ১৮ মে বিসিবি নির্বাচনের জন্য কাউন্সিলর মনোনয়ন চেয়ে বিভিন্ন ক্লাবের কাছে পাঠানো নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে ছয়জন কাউন্সিলর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। অবশ্য ভোটার তালিকায় রিট আবেদনকারীদের (ছয়জন) নাম বাদ পড়ার প্রেক্ষাপটে ২৪ মে একটি সম্পূরক আবেদন করেন বলে জানান তাদের আইনজীবী। রিট ও আবেদনের ওপর গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার শুনানি নিয়ে আদেশ দেওয়া হয়। সম্পূরক আবেদনে ৬ মের চিঠি, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনের তফসিল প্রশ্নে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় নির্বাচনের তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার কাউন্সিলর/প্রতিনিধি হিসেবে রিট আবেদনকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির পর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে যুব ও ক্রীড়াসচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, বিসিবির প্রধান নির্বাহী, বান্দরবান, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বগুড়ার জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়।