ঢাকা শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সেঞ্চুরির রহস্য জানালেন মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সেঞ্চুরির রহস্য জানালেন মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ব্যাটিং যে সহজ হবে না, সেটি জানা ছিল আগেই। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন সেই ধারণাই যেন আরও স্পষ্ট হলো। একের পর এক ব্যাটার ফিরলেন, বাংলাদেশ হারাল ৯ উইকেট ১৯৪ রানে।

তবে ইনিংসের শেষটা আরেকটি গল্প লিখেছে। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ! ধসে পড়ছিল বাংলাদেশের ইনিংস। একের পর এক ব্যাটার ফিরছিলেন সাজঘরে। স্কোরবোর্ডে তখন ৫ উইকেটে ১০৫ রান।

সেই মুহূর্তে ব্যাট হাতে নামেন মিরাজ। পাঁচ রান যোগ হতেই আরও একটি উইকেটের পতন। বাংলাদেশের ইনিংস কোথায় গিয়ে থামবে, সেই শঙ্কা যখন প্রবল, তখনই প্রতিরোধের দেয়াল হয়ে দাঁড়ান এই অলরাউন্ডার।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটা তাই বাংলাদেশের জন্য যেমন বিপর্যয়ের গল্প, তেমনি মিরাজের একার লড়াইয়েরও গল্প।

দলের ২৬৩ রানের মধ্যে অপরাজিত ১০৯ এসেছে তার ব্যাট থেকে। ১৪১ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। দলের আর কোনো ব্যাটার অর্ধশতকের দেখা পাননি। ডারউইনে শুরুর দিকটা মোটেও সহজ ছিল না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের স্পিনার কোরি রোক্কিসিওলি একাই ২৪ ওভারে ৮৩ রানে তুলে নেন ৬ উইকেট। তাঁর ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৯৪ রানে পৌঁছে গেলে বড় ব্যবধানে অলআউট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ উইকেটে সৈয়দ খালেদ আহমেদকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়ে সেই বিপদ অনেকটাই সামলে দেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত খালেদ আউট হলেও অপরাজিত থাকেন তিন অঙ্ক ছোঁয়া এই অলরাউন্ডার।

দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সেঞ্চুরির রহস্য নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। ওদের বোলাররা অনেক ভালো জায়গায় বল করছিল। আমার জন্য একটু কঠিন ছিল, যেহেতু এই প্রথম এই কন্ডিশনে খেলছি।

তাই পার্টনারশিপ গড়া আর রান বাড়ানোর জন্য খেলেছি। প্রথমে রানের জন্য খেলিনি। চেষ্টা করেছি উইকেটে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। পরে সুযোগ পেয়েছি যখন রান হয়ে গিয়েছে।’

পরিস্থিতির দাবি বুঝে ব্যাটিংয়ের ধরনও বদলে নিয়েছিলেন তিনি।

শুরুতে ধৈর্য, এরপর স্ট্রাইক রোটেশন, আর সুযোগ মিললে বাউন্ডারি-এই পরিকল্পনাতেই এগিয়েছেন।

নিজের ব্যাটিং নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কন্ডিশন শুরু থেকেই কঠিন ছিল। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি, স্ট্রাইক রোটেট করে খেলেছি। সুযোগ আসলে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’

এই ইনিংসকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে এটি আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই বিশ্বাস তার।

তিনি বলেন, ‘সামনে টেস্ট আছে যেহেতু, অনেক আত্মবিশ্বাস দিবে। যে মাইন্ড সেটআপে ছিলাম, ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে আমার জন্য ও দলের জন্য ভালো হবে।’

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গেছে বাংলাদেশ। বর্তমান দলের কোনো ক্রিকেটারেরই দেশটিতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। সেই বাস্তবতায় প্রস্তুতি ম্যাচের এই শতক শুধু স্কোরবোর্ডে তিন অঙ্ক নয়, কঠিন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও একটি বার্তা। দিনের শেষ ভাগে বল হাতেও ইতিবাচক শুরু করেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে ২ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে। এক রানেই দুই উইকেট হারানো স্বাগতিকদের প্রথম ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। আরেকটি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ।

প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তাই শুধু একটি শতক নয়। কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে তোলার যে মানসিকতা দেখিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সেটিই মূল টেস্ট সিরিজের আগে দলকে দিতে পারে সবচেয়ে বড় স্বস্তি। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গেছে বাংলাদেশ। ১৩ আগস্ট শুরু সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু ২২ আগস্ট ম্যাকেতে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত