ঢাকা শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পথ হারানো ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

পথ হারানো ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

একটা সময় মনে হচ্ছিল, ডারউইনের মারারা ওভালে বাংলাদেশের ইনিংসটা বুঝি দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। স্কোরবোর্ডে রান উঠছিল ধীরগতিতে, কিন্তু উইকেট পড়ছিল নিয়মিত। একে একে ফিরে যাচ্ছিলেন দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটাররা। ১১০ রানে নেই ছয় উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম পরীক্ষার শুরুতেই যেন বড় ধাক্কা! কিন্তু ক্রিকেটে গল্প কখনো কখনো একজনের হাত ধরে বদলে যায়। বাংলাদেশের জন্য সেই মানুষটি ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ!

যে ১ম ইনিংস একসময় দেড়শ রানের আগেই শেষ হওয়ার শঙ্কায় ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেল ২৬৩ রানে। এরপর আজ বৃহস্পতিবার তিনদিনের ম্যাচের প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংসে তুলেছে ২ উইকেটে ৫১ রান। এই প্রত্যাবর্তনের পুরো গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মিরাজ। ১৪১ বলে অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংসে তিনি শুধু নিজের শতকই তুলে নেননি, বরং দেখিয়েছেন কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে টেনে তুলতে হয়। ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে আজ তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা ছিল একেবারেই হতাশার।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফিরে যান তানজিদ হাসান। রানের খাতা খোলার আগেই ওপেনারের বিদায়ে শুরু হয় ধসের। সাদমান ইসলাম কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ৩১ রান করে তিনিও থামেন। এরপর মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমণ্ডঅভিজ্ঞতার দুই স্তম্ভও দাঁড়াতে পারেননি অস্ট্রেলিয়া একাদশের বোলিংয়ের সামনে। মুশফিকের বিদায়টা ছিল আরও হতাশার। মাত্র চার বল খেলেই শূন্য রানে ফিরে যান তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। সাতটি চারে সাজানো ৩৭ রানের ইনিংসটি আশা জাগালেও সেটি বড় হয়নি। অমিত হাসানের ১৫ রানের পর যখন ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে, তখন বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন-ইনিংসটা কোথায় গিয়ে থামবে?

সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে তখন ক্রিজে মিরাজ! প্রথম দিকে তিনি ছিলেন সতর্ক। জানতেন, এই উইকেটে টিকে থাকাই প্রথম কাজ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ছন্দ খুঁজে নেন। খারাপ বল পেলে শাস্তি দিয়েছেন, আবার ভালো বলকে সম্মানও করেছেন। একসময় তার ব্যাটেই দেখা যায় বাংলাদেশের লড়াইয়ের ছবি। সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। সৌম্য ফিরে যাওয়ার পরও থামেননি। তাইজুল ইসলামকে নিয়ে এগিয়েছেন, এরপর শেষ দিকে খালেদ আহমেদের সঙ্গে গড়েছেন ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। সেই জুটিই বাংলাদেশের ইনিংসকে নিয়ে যায় ২৬৩ পর্যন্ত। খালেদ করেন ১৫ রান। কিন্তু সেই ১৫ রানের মূল্য ছিল অনেক। কারণ অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মিরাজ তখন শুধু রান করছিলেন না, বাঁচাচ্ছিলেন একটি ইনিংস।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১০৯ রান। ১১টি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংস বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে ফিরিয়েছে স্বস্তি। মিরাজের এই শতক মনে করিয়ে দিয়েছে, একজন অলরাউন্ডার কখনো কখনো দলের পুরো চিত্রটাই বদলে দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়া একাদশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন কোরি। অফস্পিনে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে বিপদে ফেলে ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার বোলিংয়েই একসময় বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দিনের শেষ হাসিটা ছিল বাংলাদেশের। ২৬৩ রানের জবাব দিতে নেমে অস্ট্রেলিয়া একাদশের শুরুটাও ভালো হয়নি। নতুন বল হাতে হাসান মাহমুদ প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন আলোচিত তরুণ ব্যাটার স্যাম কনস্টাসকে। এরপর তাসকিন আহমেদ দ্বিতীয় আঘাত করেন। তার বলে ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে ফিরে যান শূন্য রানে।

মাত্র ১ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে অস্ট্রেলিয়া একাদশ। পরে অবশ্য কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপ দিনের বাকি সময় সামলে নেন। প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫১ রান। স্কোরবোর্ড বলছে, অস্ট্রেলিয়া এখনো পিছিয়ে ২১২ রানে। তবে বাংলাদেশের জন্য প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু রানের ব্যবধান নয়। প্রাপ্তি হলো কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতা। ডারউইনের প্রথম দিন তাই বাংলাদেশের জন্য দুই গল্পের দিন। একদিকে ব্যর্থতার অন্ধকার, অন্যদিকে মিরাজের ব্যাটের আলো। আর সেই আলোতেই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন শেষে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ।

তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচের লড়াই শেষে আসল পরীক্ষা! ১৩ আগস্ট এই ডারউইনে শুরু দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। স্বাগতিক অজিদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু ২২ আগস্ট থেকে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত