ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নিরাপত্তার অভিযোগের পরই বরখাস্ত বাংলাদেশ কোচ

নিরাপত্তার অভিযোগের পরই বরখাস্ত বাংলাদেশ কোচ

বাংলাদেশে কাজ করতে এসে শেষ পর্যন্ত মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনাতেই বেশি আলোচনায় জেরার্ড জোন্স। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে তার অধ্যায় শেষ করে দিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সহকারী কোচের সঙ্গে টিম হোটেলে হাতাহাতি, পুলিশ ডাকা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ-সবকিছুর পরই এসেছে এই সিদ্ধান্ত। বাফুফের সূত্র জেরার্ডকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে বাংলাদেশ দল উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার ঠিক আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

গত বুধবার টিম হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এরপর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন জেরার্ড। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি। বিষয়টি যখন ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর্যায়ে, তখনই নতুন করে আলোচনার জন্ম দেন জেরার্ড নিজেই। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় কর্মক্ষেত্রে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না।

জেরার্ড বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আত্মরক্ষার্থেই আমাকে পুলিশ ডাকতে হয়েছিল। আমি বাফুফেকে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) আমার প্রাপ্ত আঘাতের ছবি পাঠিয়ে বিষয়টি জানিয়েছিলাম, কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাহায্য বা সমর্থন পাইনি। আমি এখনও নিরাপদবোধ করছি না। এমন একটি দেশে আছি যেখানে প্রতিনিয়ত সাহায্যের জন্য আকুতি জানাতে হচ্ছে।’ তবে একই ভিডিও বার্তায় সহকারী কোচের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। মিশুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ভালো বলেই দাবি করেন জেরার্ড।

জোন্স বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। আমরা হাসাহাসি করি, একে অপরের রুমে যাতায়াত করি এবং ম্যাচে কৌশলগত বিষয় শেয়ার করি। কিন্তু একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।’ নিজের ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা নজিরবিহীন দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই কাজের জায়গায় শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়নি বা সুরক্ষার জন্য পুলিশ কিংবা ব্রিটিশ দূতাবাসের সহায়তা নিতে হয়নি। যখন এএফসি প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে, তখন কেন এমনটা করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।’

জেরার্ডের বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ একদিকে তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলেছেন, অন্যদিকে টিম হোটেলে সংঘর্ষ ও পুলিশ ডাকার ঘটনাও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাফুফের সঙ্গে বেতন নিয়ে তার আগের বিতর্ক। বেতন না পাওয়ায় পরিবার আর্থিক সংকটে রয়েছে বলে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন তিনি। পরে বাফুফে জানায়, যথাসময়েই তার অ্যাকাউন্টে বেতন জমা দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে নিরাপত্তা নিয়ে জেরার্ডের অভিযোগও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই দেশের আরও কয়েকজন বিদেশি কোচ বাংলাদেশের ফুটবলে ও অন্যান্য খেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার এবং জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলির পাশাপাশি আর্চারি ফেডারেশনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মার্টিন ফ্রেডরিক।

শেষ পর্যন্ত জেরার্ডের অভিযোগ, হোটেলের ঘটনা এবং বাফুফের তদন্ত-সবকিছুর সমাপ্তি ঘটল বরখাস্তের সিদ্ধান্তে। গত জুনে দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। অথচ দুই মাস না পেরোতেই দায়িত্ব ছাড়তে হলো তাকে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায়। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার আগে নতুন কোচ ছাড়াই কীভাবে প্রস্তুতি সামলাবে বাংলাদেশ? ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া সেই পরীক্ষায় মাঠের লড়াইয়ের আগে কোচের চেয়ার নিয়েই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশের যুব ফুটবল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত