
সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা জেলার চারটি আসনে ২৯ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামি আন্দোলনে বাংলাদেশের তিন প্রার্থীসহ ২১ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। মোট ভোটের ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় এসকল প্রার্থীরা জামানত হারান।
জামানত হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল হাই আল হাদী।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ জন, জাতীয় পার্টির ৪ জন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ২ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ১ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ১ জন, আমজনতার দলের ২ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ১ জন ও স্বতন্ত্র ৬ জন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে।
এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। সে হিসেবে ভোলার চারটি আসনের ২৯ প্রার্থীর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ২১ জন।
ভোলা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা-১ (সদর) আসনে ভোট পড়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ১৮১। সাড়ে ১২ শতাংশের হিসেব অনুযায়ী ওই আসনে জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ২৬ হাজার ৬৪৭ ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিলো।
সেখানে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আকবর হোসাইন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ৫৯৯ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ওবায়দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৪৫ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ৩০৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মু. আইনুর রহমান জুয়েল ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ১০৩ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান আম প্রতীকে পেয়েছেন ২১৭ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হোসেন সূর্যমুখী ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ১৩৪ ভোট। তাদের সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ৬৬২। জামানত রক্ষার ন্যূনতম ২৭ হাজার ৭০৭ ভোটের বিপরীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাড.মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫০ ভোট।
এলডিপি প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮১, আমজনতার দলের মো. আলাউদ্দিন প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭০ ভোট। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাছলিমা বেগম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ২৯১, অ্যাড. মহিবুল্যাহ খোকন হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪৬ ও মো. জাকির হোসেন খন্দকার মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৬ ভোট।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৯০১। জামানত রক্ষার ন্যূনতম ২৭ হাজার ২৩৭ ভোটের বিপরীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮৯। ইসলামী আন্দোলনের মো. মোসলেহ উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে সাত হাজার ২৫৫, গণঅধিকার পরিষদের মো. আবু তৈয়ব ট্রাক প্রতীকে ২৬০, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. মো. রহমাত উল্লাহ হেলিকপ্টার প্রতীকে পেয়েছেন ৫০৮ ভোট।ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে মোট ভোট পড়েছে তিন লাখ তিন হাজার ৬০৯। জামানত রক্ষায় ন্যূনতম ৩৭হাজার ৯৫১ ভোটের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯৩৫ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪৫, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) প্রার্থী আবুল কালাম সিংহ প্রতীকে পেয়েছেন ২০৮, আমজনতার দলের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন রুমী প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ১৭৬ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ২৩৫ ভোট।
ভোলা জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোলার চার আসনে মোট ভোট ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৬৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৩ জন। ভোটের শতকরা হার ৫৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।