
ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধ, বিভিন্ন আভিযানিক সফলতা এবং আসন্ন কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খুলনা ২১ বিজিবি। এর আওতাধীন সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
খুলনা ও কুষ্টিয়া দুটি সেক্টরের অধীনে দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭টি ইউনিটের ১১৬টি বিওপি’র মাধ্যমে নিয়মিত টহল চলছে। দিনভর মোট ৪৬৪টি টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পাচার প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি ঈদুল আজহা উপলক্ষে সম্ভাব্য পশু চোরাচালান রোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি যানবাহনে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া চোরাচালানের রুট চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
গত সাড়ে তিন মাসে মোট ২৫৫০টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল, ৯১৩টি চেকপোস্ট এবং ৮৮৪টি মতবিনিময় সভা পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৩টি টাস্কফোর্স অভিযানে ১ জনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ জনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই সময়ে ৯১ জন আসামিসহ প্রায় ৬৩ কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি মহাপরিচালকের ভিশন অনুযায়ী, সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে বাহিনীটি। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।