অনলাইন সংস্করণ
১৭:৩০, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আয়োজিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি ৫ জনে অন্তত ১ জন ‘মডি’ নামের একটি বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
বিএমইউ’র শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা জানান, এই বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিস সঠিকভাবে শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য জিনগত গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
গবেষণায় দেখা গেছে, সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশের নির্দিষ্ট কিছু জিনে পরিবর্তন রয়েছে, যা ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং (মডি)’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই জিনগত পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জিনগত পরিবর্তন আছে কি না—তা কেবল উপসর্গ দেখে নির্ণয় করা কঠিন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তারা বলেন, গবেষণার ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের এবং চিকিৎসায় প্রয়োগের আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
এ ধরনের ডায়াবেটিস টাইপ ১ বা টাইপ ২ নয়, বরং ভিন্ন প্রকৃতির। তাই রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এটি আলাদাভাবে শনাক্ত করা জরুরি।
‘ডিসেমিনেশন অফ পাবলিশড পিএইচডি রিসার্চ অফ ডা. মাশফিকুল হাসান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রচলিত ধরনে পড়ে না।
গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয়, দেশের মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।
এছাড়া বর্তমানে ব্যবহৃত নির্ণয় পদ্ধতিগুলো সবসময় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে বলে মত দেন গবেষকরা। ফলে দেশভিত্তিক গবেষণা ও নতুন সমাধান উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যা এর বৈশ্বিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের জিনগত গবেষণা অত্যন্ত জটিল হলেও রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের গবেষণা আরও বাড়ানো জরুরি।
এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান, অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ ও ডা. মোহাম্মদ সলিমুল্লাহসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
তারা জানান, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে গবেষণালব্ধ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এ ধরনের ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কখনও শুধুমাত্র ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, আবার কখনও ওষুধের প্রয়োজনই হয় না। তাই সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।