
ইরানের চলমান গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটি এখন ‘গুরুতর সংকটের’ মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন।
শুক্রবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরান এখন বড় বিপদে আছে। আমার মনে হয়, জনগণ এমন কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি।’’
ইরানি নেতৃত্বের উদ্দেশে কোনো বার্তা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনারা গুলি চালানো শুরু করবেন না। কারণ, আপনারা গুলি চালালে আমরাও পাল্টা গুলি চালাব।”
তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো আবারও যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। তবে এর ব্যাখ্যায় ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, এর অর্থ ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন নয়। বরং তিনি বলেন, “এর মানে হলো তাদের অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোতে কঠোর আঘাত হানা, যা তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে।”
এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গতকাল সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি চলমান পরিস্থিতিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এই বিক্ষোভ মূলত বিদেশি শক্তি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে খামেনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে এবং তারা বিদেশিদের ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের হাত ইরানিদের ‘রক্তে রঞ্জিত’। তেহরান এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন বিক্ষোভকারী।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রকে জনগণের ‘প্রকৃত অভিযোগ’ শোনার তাগিদ দিয়েছেন। তবে সরকারের অন্য শীর্ষ নেতারা কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, এই বিক্ষোভ বিদেশি শত্রুদের সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না।