অনলাইন সংস্করণ
২১:৫৪, ২৪ মার্চ, ২০২৬
‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান-এর স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেওয়া ওই বাণীতে তিনি বলেন, এ ঘোষণা জাতিকে অসীম সাহস জুগিয়েছিল এবং দেশমাতৃকার জন্য প্রাণ উৎসর্গে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৫ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের এক নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এ রাতেই পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, তৎকালীন ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক ও অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ এ গণহত্যার শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, ২৫ মার্চের সেই কালরাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে এবং শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা ও বিজয়।
রাষ্ট্রপতি শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই দিনে তিনি সব শহিদকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নির্মমতা এবং জাতির গৌরবগাঁথা সম্পর্কে জানার আহ্বান জানান, যাতে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।
তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনরায়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহিদদের স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে বৈষম্য, দুর্নীতি ও অবিচার থাকবে না। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে ২৫ মার্চসহ দেশের সব শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।