
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও থানা ভবন প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে রাউজান আর আর এসি মডেল সরকারি হাই স্কুল, ছালামত উল্লাহ হাই স্কুল, মিনি স্টেডিয়াম, ৩১ শষ্যার সুলতানপুর হাসপাতাল, পাবলিক অডিটরিয়াম, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, জেলা পরিষদের ডাক বাংলো, মুনন্সেফ আদালত, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল ইসলাম মাদরাসাসহ নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সর্বসাধারণের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক মাওলানা দোস্ত মোহাম্মদ সড়ক পথ। উপজেলা সদরের মুন্সিরঘাটায় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি চার লেইন মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে সড়কটি চলে গেছে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ফটিকছড়ির দিকে। অন্তত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অধীনস্থ। স্থানীয়রা বলেছেন রাঙামাটি সড়কের সংযোগ থেকে এক কিলোমিটার সড়ক পথ উপজেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র ফকিরহাটের উপর দিয়ে। প্রতিদিন এই বাজারের আসা যাওয়ায় থাকে বড় বড় পণ্যবাহী ট্রাক।
ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট বড় যানবাহন। একারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফকিরহাট এলাকায় থাকে অসহনীয় যানজট। চরম ভোগান্তির শিকার হয় চলাচলকারীরা। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরসমূহে আসা যাওয়ায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপজেলা, পৌরসভাসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। স্থানীদের অভিযোগ- বহুবছর থেকে তারা ফকিরহাটের ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। জানা যায়, ফকিরহাটের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া সড়ক পথে জনভোগান্তির লাঘবে পৌর কর্তৃপক্ষ নেদারল্যান্ডের একটি প্রকল্পের অধীনে কয়েক বছর আগে এই পথের যানজট কমাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল। এখন ওই প্রকল্পটির অধীনে প্রায় আধা কিলোমিটার দৈর্ঘ্য একটি নতুন বিকল্প সড়ক নির্মাণকাজ সমাপ্তির পথে রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়- দারুল ইসলাম মাদরাসার পাশ দিয়ে নতুন বিকল্প সড়কটি সংযুক্ত হয়েছে উপজেলা ও পৌর ভবনের সামনের দোস্ত মোহাম্মদ সড়কের সাথে। আরসিসি ঢালাই কাজের মাধ্যমে নির্মাণ করা এই সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছে স্যোলার লাইট, রঙ-বেরঙের ফুল গাছ। দুইপাশে রাখা হয়েছে বড় পরিসরে পানি নিষ্কাশনের পথ। এরই মধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি আছে দোস্ত মোহাম্মদ সড়ক সংযোগে বাজারের পানি নিষ্কাশনের একটি নালার কালবার্ট নির্মাণের কাজ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই বিকল্প সড়ক ফকিরহাটের যানজট কমাবে। এখন নতুন সড়কের দুপাশে লাগানো ফুলের সৌরভ এখন এলাকাবাসী ও শিশু কিশোরদের বিনোদনের খোরাক হয়েছে। বিকাল হলে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ নতুন সড়কের পাশে বসে সৌন্দর্য উপভোগ করছে। ঘুরে ফিরে সময় কাটাচ্ছে। নতুন বিকল্প সড়কটির নির্মাণকাজ নিয়ে কথা বললে রাউজান পৌরসভার দায়িত্বে থাকা পৌর প্রশাসক রাউজান সহকারী কমিশনার ভুমি অংছিং মারমা বলেন এই বিকল্প সড়কটি নির্মাণের ফলে ফকিরহাটের উপর যানবাহনের চাপ কমে যাবে। মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। তিনি জানান নেদারল্যান্ড ভিত্তিক ইমপ্রুভিং আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্টের (আইইউজিআইপি) অধীনে এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে দুই কোটি ৬২ লাখ ১৬ হাজার ৭২২ টাকা। সড়ক মুখের পানি প্রবাহের কালবাটটি নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে আছে। কাজ শেষ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্বোধন করা আশা করা হচ্ছে। উপজেলা কর্মকর্তা এস.এম রাহাতুল ইসলাম বলেন রাউজানের দোস্ত মোহাম্মদ সড়ক রাউজান উপজেলার সবচেয়ে ব্যবস্ততম সড়ক। এই সড়ক পথে ফটিকছড়ি মুখি শত শত যানবাহনের যাতায়াত থাকে। তাছাড়া বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ থাকে ব্যাপক। একারণে এক কিলোমিটার পথ সর্বসাধারণের জন্য চরম ভোগান্তির। বিকল্প সড়কটি নির্মাণের ফলে এই ভোগান্তির অবসান হবে বলে এই কর্মকর্তার দাবি।