ঢাকা রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মিরসরাইয়ে সচেতনতার অভাবে বাড়ছে যক্ষ্মা

আট বছরে ৬৪ জনের মৃত্যু
মিরসরাইয়ে সচেতনতার অভাবে বাড়ছে যক্ষ্মা

মিরসরাই উপজেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী। সচেতনতা না বাড়ার কারণে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গত ৮ বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ হাজার ৪২৪ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৬৪ জন। চলতি বছর মারা গেছেন ৭ জন। মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, পুরো বছরকে ৪টি ফেজে ভাগ করে রোগীদের কফ পরীক্ষা করা হয়। জানুয়ারি-মার্চ মাস পর্যন্ত প্রথম ফেজ, এপ্রিল-জুন মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় ফেজ, জুলাই-সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তৃতীয় ফেজ, অক্টোবর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চতুর্থ ফেজ ধরা হয়। ২০১৮ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি ফেজে প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তির কফ পরীক্ষা করে ৭৮২ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। ওই বছর মারা যায় ৭ জন।

২০১৯ সালে শনাক্ত হয় ৮৫১ জন। মারা যায় ১২ জন। ২০২০ সালে কভিড করোনা ভাইরাস থাকায় অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বের হয়নি। তবুও ওই বছর ৫৬৩ জনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। মারা যায় ৭ জন। ২০২১ সালে চারটি ফেজে কফ পরীক্ষা করা হয় ৮ হাজার ৬৪১ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৭১৯ জন। এছাড়া ইপি (এস্ট্রা পারমোনালি) রোগী পাওয়া যায় ২৭৪ জন। মারা যায় ৮ জন। ২০২২ সালে প্রায় ১৩ হাজার রোগীকে চারটি ফেজে পরীক্ষা করে ৭১০ জনের শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। ওই বছর মারা যান ২ জন। ২০২৩ সালে চারটি ফেজে কফ পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ৩১২ জনের। মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয় ১ হাজার ২৮২ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৮৫৮ জন। মারা যায় ৮ জন। ২০২৪ সালে চারটি ফেজে কফ পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ১২ জনের। মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয় ৩ হাজার ৫৯৮ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৮৬৩ জন। মারা যায় ১৩ জন। ২০২৫ সালে চারটি ফেজে কপ পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ৮১৫ জনের। মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয় ২ হাজার ৬৮৪ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৮০৪ জন। মারা যায় জন ৭।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষার জন্য বেলজিয়াম থেকে একটি মূল্যবান মেশিন আনা হয়েছে। যাতে কোনো প্রকার ত্রুটি ছাড়াই যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয় বিনামূল্যে। অন্যান্য দেশে এ পরীক্ষাটি করতে ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্য দিয়ে উন্নতমানের এক্সরে মেশিনের সাহায্যে এক্সরেসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে রক্তের সব ধরনের পরীক্ষা করানো হচ্ছে বর্তমানে। ফলে দ্রুত সময়ে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে। যক্ষ্মা ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় একজন থেকে কমপক্ষে ১০ জনের কাছে এ রোগ ছড়াতে পারে।

উপজেলা টিএলসিএ মো. হুমায়ুন কবির জানান- যক্ষ্মা রোগীকে দুই মাস, তিন মাস ও পাঁচ মাস পর পরীক্ষা করা হয়। বেশি জটিল রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ফৌজদারহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। যক্ষ্মা ধরা পড়ার পর নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে মৃত্যুহার এড়ানো সম্ভব। যক্ষ্মা রোগী যখন ডায়াবেটিক, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হন তখন মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। সঠিকভাবে যক্ষ্মা নিরূপণ করার জন্য রোগীদের কফ পরীক্ষার পাশাপাশি মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয়। যেখানে শতভাগ রোগ নির্ণয় সম্ভব। একটানা দু’সপ্তাহের বেশি কাশি হলে, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর জ্বর আসা, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া যক্ষ্মা রোগের অন্যতম লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। এছাড়া এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত সভা, সেমিনার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত