
সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ মাঠ। চাষে বেশি লাভজনক হওয়ায় কয়েক বছর ধরে সরিষার আবাদের দিকে ঝুঁকছে এ উপজেলার কৃষকরা। চলতি রবি মৌসুম এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার কোনাে বিরূপ আচরণ দেখা না দেয়ায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন এখানকার কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মাঠে-প্রান্তে যেদিকে চোখ যাচ্ছে হলুদ রঙের সরিষা ফুলের চোখ ধাধানো বর্ণিল সমারোহ হৃদয়-মন তৃপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আর মৌমাছিসহ সংগ্রহের দূশ্য সত্যিই মনোমুদ্ধকর। সরিষা ফুলের ঢেউ দুলছে কৃষকের মন। কৃষি অফিস জানায়- কৃষকরা বারি সরিষা ১৪, ১৫, ১৭, ১৮ এবং বিনা সরিষা ৯, ১১ চাষ করেছে। এবার রবি মৌসুমে ৪৩৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছর তা ২৫২ হেক্টর আবাদ ছিল। এবার সরিষা অর্জনে ৪৫০ হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে। কৃষকরা জাানান, চলতি রবি মৌসুম এখন পর্যন্ত প্রকৃতি বৈরি আচরণ না করায় চাষের পরিবেশ অনুকূল থাকায় যেন ফটিকছড়তে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ বাম্পার ফলিনের সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে। যথাসময় ঘর তুলতে পারলে সরিষার ভালো বিক্রয়মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত চার বছর মতো এবারও ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর এলাকায় সরিষা চাষ করেছেন সেলিম উদ্দিন নামের একজন কৃষক। তিনি বলেন, ১৫ কানি সরিষা চাষ করেছেন। কৃষি অফিস তাকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তিনি ভালো ফলন পাবে বলে আশা করছেন।
কথা হয় কাঞ্চননগর এলাকার অন্য কৃষক মো. মুছার সঙ্গে। তিনি বলেন, শুরুর দিকে পোকা মাকড়ের আক্রমণ থাকলেও ঔষধ প্রয়োগ করে রোগ-বালাইমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে ভোজ্য তেলের যে চাহিদা রয়েছে আগামী চার বছরের মধ্যে সেই চাহিদার ৪০-৫০ শতাংশ মেটানো হবে সরিষার তেল দিয়ে। আর এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরিষার চাষ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, সরিষা তৈল জাতীয় ফসল। আমন আবাদ শেষ হলে বোরো চাষের আগে মাঝখানের সময় টাতে চাষ করে বারতি একটা ফসল ঘরে তোলা যায়। অনাবাদি পতিত জমিতেও চাষ করে লাভজনক হওয়া যায়। বারি সরিষা ১৪, ১৭, ১৮ এবং বিনা সরিষা ৯,১১ বীজ প্রনোদনা হিসেবে কৃষি অফিস থেকে প্রদান করা হয়েছে। এবার ফটিকছড়িতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।