ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরেছে জিরো ওয়েটিং টাইম, স্বস্তি ব্যবসায়ীদের

চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরেছে জিরো ওয়েটিং টাইম, স্বস্তি ব্যবসায়ীদের

বাংলাদেশের হৃদপিন্ড খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর সমুদ্রবন্দর ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এমন অবস্থা নির্দেশ করে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষা এখন শূন্যে নেমে এসেছে। এতে জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। পাশাপাশি এটি দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও দক্ষতার একটি শক্তিশালী প্রমাণ বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সাফল্যের ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতাও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তারা জানান, সমন্বিত পরিকল্পনা, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করে চট্টগ্রাম বন্দর। এরপর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে এ অবস্থা বজায় ছিল। তবে জানুয়ারির শেষ দিকে এবং ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে কর্মবিরতি ও নানা জটিলতার কারণে বন্দর কার্যক্রমে সাময়িক ছন্দপতন ঘটে। পরবর্তীতে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় আবারও জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঈদের ছুটির সময়ও বন্দর ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে উঠলেও কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজরদারি ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অপেক্ষার সময় আবার শূন্যে নেমে আসে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য ওঠানামা করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে। তিনি আরও বলেন, এতে শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমছে। আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন। লজিস্টিকস খরচ কমায় পণ্যের বাজার মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার সুফল পাচ্ছেন ভোক্তারা।

মূলত রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েটিং টাইম শূন্যে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঈদের ছুটিতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হয়। তিনি বলেন, এ অর্জনের ফলে জাহাজগুলো আর বহির্নোঙরে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়নি, ফলে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। ব্যবসায়িক ব্যয় কমেছে, সরবরাহ চেইন হয়েছে আরও নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কার্যকর সহযোগিতা থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বমানের সেবায় পৌঁছাতে সক্ষম। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ শুধু একটি অর্জন নয়, বরং চট্টগ্রাম বন্দরের একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। চট্টগ্রাম বন্দর ঈদের ছুটির বন্ধেও ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন অপারেশনাল কার্যক্রম চালু রেখেছিল। ঈদের আগে জাহাজের ওয়েটিং টাইম ৩ থেকে ৫ দিনে উন্নিত হলেও কর্তৃপক্ষের সার্বিক মনিটরিং এবং সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় পুনরায় শুন্য দিন অর্জন সম্ভব হয়েছে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য লোড আনলোড করে চলে যেতে পারে। শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমে। আমদানিকারক দ্রুত পণ্য পায় এবং রপ্তানিকারক সময়মত পণ্য পৌঁছাতে পারে। লজিস্টিকস খরচ কমে যাওয়ার ফলে পণ্যের বাজার মূল্য কমে যায়, ভোক্তারা কম মূল্যে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যাদি কিনতে পারে।

প্রসঙ্গত, রমজান মাসের শুরু থেকেই দেশের সাপ্লাই চেইন সরবরাহ সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। আর ঈদের ছুটির মধ্যেও ওয়েটিং টাইম শূন্য রাখতে অপারেশনাল শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঈদের ছুটিতে রোস্টার ডিউটি নির্ধারণ করা হয়।

একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যসহ সব বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সুষ্ঠ বাস্তবায়নের ফলেই এই ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দরে জিরো ওয়েটিং টাইম বজায় রাখা এবং আমদানি রপ্তানি কার্যক্রমে আশানুরূপ গতি বজায় থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত