
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের গিলাতলী খালের দুই পাড়ে ৬০০ পরিবারে প্রায় ৩ হাজার লোক বসবাস করেন। তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে লম্বা বাঁশের সাঁকো। তাদের এই সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি পোহালেও ব্রিজের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। স্থানীয়রা কয়েক বছর পর পর নিজ খরচে এ সাঁকোটি নির্মাণ করে আসছে। প্রায় ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাঁকোটি যেন গ্রামবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসী বহুদিন ধরে সরকারি খরচে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুফল পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিন দেখা যায়, নড়বড়ে ওই সাঁকোটি পার হয়েই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য এই সাঁকো পার হয়েই বিভিন্ন হাটবাজারে বাজারজাত করছেন।
সাঁকোটি অনেক লম্বা হওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে। এতে পা পিছলে পড়ে গিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতাল কিংবা উপজেলা সদরে ডাক্তারের নিকট আনা-নেওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে। বিষয়টি বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না জানালেন ভুক্তভোগীরা। হাবিবুর রহমান সিকদার নামে এক বৃদ্ধা জানান, তাদের ভোগান্তি কেউই দেখতে আসেন না। আক্ষেপ করে বলেন, এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে? শিশু ও বয়স্কদের এত বড় সাঁকো পাড় হতে ভয় করে। একটা ব্রিজ হলে শিশুরা দৌড়ে স্কুলে যেতে পারতো। জন্মের পর থেকেই এখানে সাঁকো দেখছি আর এখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসেও সাঁকো পার হয়েই মরতে হবে। ব্রিজ আর দেখে যেতে পারলাম না।
আমড়াগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উক্ত বাঁশের সাঁকোর স্থানে সরকারি অর্থায়নে একটি ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, স্কিমটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন হলে বাস্তবায়ন করা হবে।