
জয় বাংলা স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্থানীয় বিএনপির দু-গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং আহত অন্য তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে।
গত রোববার রাত আটটার দিকে গার্লস কলেজ মোড়ের মাস্টারপাড়া সড়কে দুই পক্ষের সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন- শীতলাইপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রাজন, তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মাসুম পারভেজ রতন, মাদার আলীর ছেলে রাজিব, আনারুল ইসলামের ছেলে মিঠুন ও অন্যপক্ষের দৌলতপুর গার্লস কলেজ মোড় এলাকার আলাউদ্দিন আলীর দুই ছেলে ইমন ও আশিক এবং আরশেদ আলীর ছেলে মিন্টু।
শীতলাইপাড়া পাড়া গ্রামের আহত মিঠুন জানান, গার্লস কলেজ মোড়ে সন্ধ্যার পরে ইমন আশিক ও তার লোকজন একত্রিত হয়ে জয় বাংলা স্লোগান দেয়। এমন খবর পেয়ে আমরা তার প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাত কুড়াল রামদা, লোহার স্টিকসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদেও উপর অতর্কিত হামলা চালায়। অন্যপক্ষের আহত মিন্টু জানান, সন্ধ্যার পরে আমার দুই ভাগ্নিকে, রতনসহ তাদের লোকজন হামলা করে। তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। মিন্টু দাবি করেন তারা দ্ইুপক্ষই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মন্টি সরকার জানান, জয় বাংলা স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুর রহমান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতরা কুষ্টিয়া এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।