
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার তগলী গ্রামে একই জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষক সেলিম মিয়া। নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ৩৩ শতক জমি আবাদ করে তিনি ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং সবজি চাষাবাদ প্রদর্শনীতে প্রথমে স্কোয়াশের বীজ রোপণ করেন। স্কোয়াশের সঙ্গে অন্যান্য সবজি চাষ করার জন্য তাকে পরামর্শ প্রদান করেন উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম। এ পরামর্শ গ্রহণ করে লাভবান হওয়া আশায় একই জমিতে ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি, রঙিন ফুলকপি ও ওলকপি চাষ করেন কৃষক মো. সেলিম মিয়া। এভাবে চাষ করে তিনি সফলতা পান। চাষাবাদে সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
সরেজমিন গেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কৃষক মো. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, নভেম্বর মাসের শেষে আবাদকৃত জমিতে স্কোয়াশের বীজ রোপণ করেন। রোপণের কয়েকদিনে মধ্যে চারা গজাতে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে গাছে গাছে ফুল আসে। পরে গাছে গাছে সবুজ ও হলুদ স্কোয়াশ শোভা পায়। স্কোয়াশের পাশাপাশি ক্যাপসিকাম, রঙিন ফুলকপি, ওলকপি ও ব্রোকলির বীজ রোপণ করেন। জমিতে এসব সবজির ভালো ফলন হয়েছে। চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। স্কোয়াশ বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি, রঙিন ফুলকপি ও ওলকপি বিক্রি করা যাবে। এসব বিক্রি থেকে প্রায় ২ লাখ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক রমিজ মিয়া, সিরাজ মিয়া ও আলফু মিয়া বলেন- মানুষ বাড়ায় সময়ের সঙ্গে জমি হ্রাস পাচ্ছে। একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করলে লাভবান হওয়া যায়। যার প্রমাণ দিলেন কৃষক মো. সেলিম মিয়া।
তার ন্যায় আমরাও নিজ নিজ জমি আবাদ করে একাধিক ফসল চাষের প্রস্তুতি নিয়েছি। এখানে আমাদেরকে নানাভাবে সহায়তা করছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম।
উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন- ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং সবজি চাষাবাদ প্রদর্শনীতে প্রথমে স্কোয়াশ চাষ করেন কৃষক মো. সেলিম মিয়া। পরে স্কোয়াশের পাশাপাশি একই জমিতে ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি, রঙিন ফুলকপি ও ওলকপি চাষ হয়েছে। তাকে পরামর্শ দিয়ে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছি। এভাবে সবজি চাষ করে তিনি লাভবান হয়েছেন।
তিনি বলেন, স্কোয়াশ দ্রুত বর্ধনশীল। সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার ফল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা যায়। সবজিটির পাইকারি দাম প্রতি কেজি ৫০ টাকা। তবে এটি খুচরা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন- স্কোয়াশ সাধারণ কুমড়ার মতো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর খাদ্য ও পুষ্টিগুণ কুমড়ার চেয়ে অনেক বেশি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হার্টের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। স্কোয়াশে একই সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, ভিটামিন বি-৬, নায়াসিন, থায়ামিন, প্যানথোটোমিন এসিড ও ফলিড। এছাড়া স্কোয়াশ ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, খনিজ, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারোটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানে ভরপুর। নিয়মিত স্কোয়াশ খেলে ফ্রি রেডিকেলসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন- মানুষ বাড়ছে, জমি কমছে। তাই একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করতে আমরা কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করছি। এখানে উপজেলার তগলী গ্রামে কৃষক মো. সেলিম মিয়া একই জমিতে স্কোয়াশের সঙ্গে একাধিক সবজি চাষ করেছেন। এভাবে সবজি চাষে প্রচুর লাভবান হওয়া সম্ভব।