
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মেহার গ্রাম। মাঠের পর মাঠ সবুজ ফসলের সমারোহ। তবে এই সবুজ গালিচার মধ্যে কৃষক বিল্লাল হোসেনের ছোট একটি জমি এখন গ্রামবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র ১২ শতাংশ জমিতে তিনি বুনেছিলেন স্বপ্নের বীজ, আর এখন সেই স্বপ্নে দেখা দিচ্ছে রুপালি রেখা। শ্রম, নিষ্ঠা আর সঠিক পরিচর্যার সমন্বয়ে বিল্লাল হোসেন এবার ঢেঁড়সের বাম্পার ফলনের আশা করছেন, যা তাকে বড় ধরনের লাভের পথ দেখাচ্ছে।
আধুনিক কৃষিতে স্বল্প জমিতে অধিক মুনাফার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন বিল্লাল। তার এই ১২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে মাত্র এক হাজার থেকে ১৫০০ টাকার মতো। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে এতোটা আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া বর্তমান সময়ে কৃষকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। বিল্লাল জানান, তার খেতের ঢেঁড়স গাছ এখন বেশ সতেজ ও সবল হয়ে বেড়ে উঠেছে। প্রতিটি গাছই এখন ফলন দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে সাদাটে ফুল, আর কচি ঢেঁড়সের আগমন দেখে কৃষকের চোখেমুখে তৃপ্তির আভা ছড়িয়ে পড়ছে।
কৃষক বিল্লালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি গত কয়েক মাস ধরে এই খেতের পেছনে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। চারা লাগানো থেকে শুরু করে নিড়ানি ও সার প্রয়োগ, সবই করেছেন নিজ হাতে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে বলেন, তার খেতের ঢেঁড়শ গাছগুলো এখন পরিপূর্ণভাবে ফল দেওয়ার অবস্থায় রয়েছে। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং নিয়মিত তদারকির ফলে রোগের উপদ্রবও নেই বললেই চলে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সাত থেকে আট দিনের মধ্যে তিনি মাঠ থেকে প্রথম দফার ঢেঁড়স সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিও বিল্লালের পক্ষে কথা বলছে। স্থানীয় বাজারে এখন প্রতি কেজি ঢেঁড়সের পাইকারি দর চলছে প্রায় ৬০ টাকা। অফ-সিজন বা মৌসুমের শুরুর দিকে এই দাম কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক। বিল্লাল হোসেন হিসেব কষে দেখছেন, যদি আগামী এক সপ্তাহ বাজারের এই চড়া ভাব বজায় থাকে, তবে তার লাভের পাল্লা অনেক ভারী হবে। স্বল্প বিনিয়োগে এত অল্প সময়ে এমন মুনাফা অর্জনের সুযোগ সচরাচর দেখা যায় না। তার মতে, বাজারে নতুন সবজি হিসেবে ঢেঁড়সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, আর সেই চাহিদাকে পুঁজি করেই তিনি সফলতার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন।
মেহার গ্রামের এই ছোট কৃষকের সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত নয়, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। ১২ শতাংশের মতো ক্ষুদ্র জমিতে সামান্য খরচে যে বড় স্বপ্ন দেখা যায়, বিল্লাল তা প্রমাণ করেছেন। তার খেতের দৃশ্য এখন আশপাশের অন্য চাষিদেরও উৎসাহিত করছে। অনেক কৃষকই এখন বিল্লালের ঢেঁড়স খেত দেখতে আসছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। সঠিক সময়ে বীজ বপন আর সঠিক পরিচর্যা করলে যে ভাগ্য বদলানো সম্ভব, মেহার গ্রামের বিল্লাল হোসেন আজ তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী কয়েক দিন যদি প্রকৃতির মেজাজ ঠিক থাকে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে মেহার গ্রামের বিল্লাল হোসেনের এই ছোট ঢেঁড়স খেত থেকে অর্জিত মুনাফা তাকে পরবর্তী ফসলের জন্য আরও বড় উৎসাহ জোগাবে। তার এই নিষ্ঠা আর সাফল্যের গল্প চান্দিনার কৃষি চিত্রে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। বিল্লালের মুখে এখন শুধু একটিই প্রার্থনা বাজারের এই রমরমা ভাব যেন বজায় থাকে এবং তার পরিশ্রম যেন সার্থক হয়।