
জামালপুরে ২৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার। জামালপুরে কবিরাজির নামে প্রতারণা করে সাড়ে ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও তিন লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মো. মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বুধবার ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। গ্রেপ্তার মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ‘মেইড ইন জামালপুর’ নামে ফেসবুক পেইজে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করতেন।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা-মাকে আরও কাছে পাওয়ার উপায় খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে শুরু করে। একপর্যায়ে টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী মো. খুরশেদ কবিরাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে খুরশেদ কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারক ভুয়া আইডি থেকে ‘কবিরাজ’ নামে দুটি ও ‘আল্লাহর দান’ নামে একটি ইমো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়।
কবিরাজির ফি বাবদ একটি খাসি, চারটি জায়নামাজ, চারটি আগরবাতি, চারটি মোমবাতি, পাঁচ কেজি গরুর দুধ, পাঁচ কেজি ফল, মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় একজোড়া শূকর কিনে জবাই করানো এবং দুই কেজি চন্দন কাঠ কেনার কথা বলে চলতি বছরের ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট দুই লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকাও কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়। ১৭ মার্চ ওই কিশোরী আবার টাকা পাঠাতে গেলে বিকাশের দোকানদার বয়স কম দেখে তার বাবা ছাইদুর রহমানকে ফোন করেন। তখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন এবং সেদিনই শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। পরে পিবিআই সদর দপ্তর বিষয়টি জানতে পেরে জামালপুর ইউনিটকে মামলার রহস্য উদঘাটনের নির্দেশ দেয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে জামালপুর সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার মোস্তফার ছেলে মুছা মিয়া ও মৃত নবাব আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলামকে গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল চক্রের মূলহোতা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা। পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, আসামিরা ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা শুনে সমাধানের প্রলোভন দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করতো। ওই কিশোরী কিছুদিন ধরে মনে করে আসছিল, তার বাবা-মা ছোট ভাইবোনদের তুলনায় তাকে কম আদর করেন। সেই ভাবনা থেকেই সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে শুরু করে, আর সেখান থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি আরও বলেন, মামলার বিষয়ে জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করি। পিবিআই জামালপুর ইউনিটের দক্ষ সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়। দলগুলোর কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এত দ্রুত মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। সাধারণ মানুষকে প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।