ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভাণ্ডারিয়ায় জ্বালানি সংকট চরমে

ভাণ্ডারিয়ায় জ্বালানি সংকট চরমে

ভাণ্ডারিয়া পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা জ্বালানি সংকটের কারণে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সদরের জ্বালানি তেলের ডিলারদের দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায় এক অস্বাভাবিক চিত্র। কয়েকশ মোটরসাইকেল পেট্রোল বা অকটেনের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। লাইনে শুধু চালকরাই নন, তেলের তীব্র সংকটের কারণে অনেক পরিবারের নারী সদস্যদেরও লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ দুই-আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জনপ্রতি মাত্র ২ লিটার, আর বিশেষ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৪ লিটার তেল মিলছে। রেন্ট-এ-কার চালকরা জানান, নামমাত্র যেটুকু তেল পাওয়া যায়, তা দিয়ে বড়জোর এক ঘণ্টা গাড়ি চালানো যায়। এরপর আবার দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

রেন্ট-এ-কার চালক সোহেল হাওলাদার আক্ষেপ করে বলেন, প্রতিদিন গাড়ির মালিককে ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। এরপর তেল কিনে যা থাকে, তা দিয়ে চাল-ডাল কেনার টাকাও জোটে না। সংসার চালাব কীভাবে? ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি লিটার পেট্রোল ১২৫ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। যদিও ডিলারদের দাবি, তারা সরকারি নির্ধারিত ১১৬ টাকা দরেই তেল বিক্রি করছেন।

স্থানীয় ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ডিলার বাইজীদ এন্টারপ্রাইজ জানান, তার প্রতিদিনের চাহিদা ৬ হাজার লিটার, কিন্তু সপ্তাহে বরাদ্দ পাচ্ছেন মাত্র ১২ হাজার লিটার। ফলে প্রতিদিন মাত্র ২-৩ ঘণ্টা তেল বিক্রি করে দোকান বন্ধ রাখতে হয়।

মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের মালিক রিপন খান জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সবাইকে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা একদিন অন্তর তেল বিক্রি করছেন।

চরখালীর মো. ফয়সাল খান জানান, পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার একমাত্র পাম্পটি বন্ধ থাকায় এবং ইন্দুরকানী উপজেলা থেকে প্রচুর মানুষ আসায় তার এখানে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে অকটেনের সংকট সবচেয়ে বেশি।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক হাসিবুল হাসান জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্থানীয় সংকট নিরসনে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ডিলাররা যদি তাদের চাহিদাপত্র আমাদের কাছে জমা দেন, তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তেলের ডিপো মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সংকট সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত