
ফরিদপুর শহরে মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে উপাসনা ঘোষ (১৯) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আকাশ (২৮) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানাধীন মেরিন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উপাসনা ঘোষ ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি এলাকার বাসিন্দা উত্তম ঘোষের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চালক আকাশ রাজবাড়ি-হ-১১-৩৫৩০ নম্বরের একটি ডিসকভার ১০০ সিসি মোটরসাইকেলে উপাসনাকে নিয়ে শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি পেট্রলপাম্প থেকে জ্বালানি নিয়ে বেরিবাঁধ হয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মেরিন ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে সামনে চলন্ত একটি ইটভাটার মাটি বহনকারী লরি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৭-০৫৬০)-কে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন চালক আকাশ। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের পর দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উপাসনা ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে আহত চালক আকাশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ট্রাকের হেলপার হোসেন মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ও মালিক সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন সড়কে নিয়মিতভাবেই ইটভাটার মাটি বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচল করে, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে সরু বা ব্যস্ত সড়কে এসব ভারী যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে ছোট যানবাহনের চালকরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু অসাধু ইটভাটা মালিক অবৈধভাবে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে পরিবহন করে থাকে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে এসব মাটি পরিবহনের কারণে সড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের চেষ্টা করা হয়, তবে অভিযোগ রয়েছে- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও অজ্ঞাত কারণে এই কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করা এবং ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল—এসব কারণ মিলেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে মাটি পরিবহন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।