
ফরিদপুরে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলার একমাত্র আসামি হাসিব চৌধুরীকে রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে হাসিব চৌধুরী।
পরে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরকমলাপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় সে ধর্ষণের ভিডিও ও স্থিরচিত্র নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ধারণ ও সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামি ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১০ এর সহায়তা চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে আসামির অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৮টা ৫ মিনিটে র্যাব-১০ এর সিপিএসসি লালবাগ ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার লালবাগ থানাধীন পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি হাসিব চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত হাসিবের বাড়ি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার মোল্লারহাট এলাকায়। তিনি লিটন চৌধুরীর ছেলে। র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সে দীর্ঘদিন বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন, দুটি পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চারটি এটিএম কার্ড এবং একটি ইলেকট্রিক ভ্যাপ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সাইবারভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।