
রংপুরে হামের উপসর্গ থাকা আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আবু হুজাইফা নামের পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি।
এ নিয়ে চলতি বছর রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ থাকা ছয়জনের মৃত্যু হলো। রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান গতকাল দুপুরে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হাসপাতালে শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী জানান, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাসিন্দা আমির হোসেনের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আবু হুজাইফাকে গত ২৯ মে হামের উপসর্গ নিয়ে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হাম আইসোলেশন বিভাগে তার চিকিৎসা চলছিল। গতকাল সকাল ৯টার দিকে মারা যায় শিশুটি।ডা. তানভীর চৌধুরী বলেন, ‘শিশুটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে শারীরিক জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ১৬ জনকে হামের উপসর্গ থাকা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ছয়জন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুজন, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগের আট জেলায় হামের উপসর্গ থাকা রোগী হিসেবে মোট এক হাজার ৪০৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৩৩৩ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭০ জন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করা শিশুদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, পাঁচ মাস বয়সী আবু হুজাইফার মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল চত্বর। একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা হামের বিস্তার রোধে ব্যাপক জনসচেতনতা, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ইউনিট চালু রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।