
দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় গাছে গাছে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় সোনালু ফুল। সবুজ গাছ থেকে যেন হলুদ ঝরনা নেমে এসেছে। দিনাজপুরে বিভিন্ন স্থানে এবং সড়ক-মহাসড়ক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বন জঙ্গলে গ্রামীণ রাস্তার ধারে ছোট বড় সোনালু গাছ দেখতে পাওয়া যায়।প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম রূপে সাজাতে এবং প্রকৃতি পরিবেশের শোভা বর্ধনে সোনালু গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়ে থাকে। কালের পরিক্রমায় এ গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায়। খুব কম সংখ্যক গাছ চোখে পড়ে বর্তমানে।
শীতে সমস্ত পাতা ঝরে গিয়ে সোনালু গাছ থাকে পত্র শুন্য এবং বসন্তের শেষে ফুল কলি ধরার পূর্বে গাছে নতুন পাতা গজায়। গ্রীষ্মকালে যখন সব গাছে একসাথে সোনালু ফুল ফোটে, তখন মনে হয় সোনালী আলোকচ্ছটায় চারপাশ আলোকিত হয়ে গেছে।
গ্রীষ্মে গাছের শাখা-প্রশাখা জুড়ে ঝুলন্ত মঞ্জুরিতে সোনালী হলুদ রঙের ফুল ফুটে এবং এর ব্যাপ্তি থাকে গ্রীষ্ম কাল পুরো সময় জুড়ে।
এই মৌসুমে গাছের সব সবুজ ঝেড়ে ফেলে হলুদ ছড়িয়ে দেয়। পথচারীরা এ ফুলের বৈচিত্রতায় মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েই থাকে।
সোনালু গাছের মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। এর উচ্চতা প্রায় দশ, পনেরো ফুট। চৈত্র মাসে সব পাতা ঝেড়ে ফেলে গাছটি একদম ন্যাড়া হয়ে যায়। কিন্তু বঙ্গদেশে বৈশাখ মাসে প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয় জারুল-কৃষ্ণচূড়ার সঙ্গে। তবে হরিদ্রাবর্ণের এই ফুলের নাচ কাঠখোট্টা মানুষকেও মুগ্ধ করে।
এর যখন ফুল ফোটে তখন মতো বৃক্ষ থেকে এক-দেড় হাত ঝুলে পড়ে। সরিষা রংয়ের, সোনা রংয়ের প্রতিটি ফুলে থাকে পাঁচটি পাপড়ি ও দশটি পুংকেশর। ফুলগুলো এক ইঞ্চির মতো প্রশস্ত।
দীর্ঘ মঞ্জুরিদণ্ড এ ফুলকে আরো বেশি মোহনীয় করেছে।, কাস্তের মতো বাঁকা। ফুলের আকৃতি অনেকটা আঙুলের ডগার মতো। এ কারণে অনেকে সোনালুকে কর্ণিকার নামে ডাকে।
গাছটির ধূসর মসৃণ বাকল এবং পাতায় ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এ গাছের বাকল এবং পাতায় প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এটি ডায়রিয়ায় ও বহুমূত্র ব্যবহৃত হয়। পাতার বা ছালের রসে ক্ষত ধুলে ক্ষত দ্রুত আরোগ্য হয়। কুষ্ঠ রোগেও এটি ব্যবহৃত হয়। বানরলাঠি একটি অনেক উপকারী উদ্ভিদ।
কলেজ ছাত্র হাবিব বলেন, ‘সোনালু ফুল একটি প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতীক। সোনাল ফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে এই গাছগুলো। আমি প্রতিদিন এই সৌন্দর্য উপভোগ করি।’ স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, সোনালু ফুল গাছ প্রকৃতিতে শোভা বর্ধণকারী এক অসাধারণ গাছ। গাছটি সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
রুহুল হক একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের সাথে তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে গ্রামে একসময় অনেক সোনালু গাছ চোখে পড়তো। এছাড়াও হাট, বাজার ও গঞ্জের চারপাশেও দেখা যেত হলুদিয়া সাজের সোনালুর উপস্থিতি। এখন হাতেগোনা কিছু গাছ দেখা যায় পথে প্রান্তরে। দিন দিন কমে আসছে সোনালুর সংখ্যা।