
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর এলাকায় খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে চুক্তির একাধিক শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ৮নং শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের আলাপুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বানী চৌধুরী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্তর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) হবিগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সামিউল আজম, সহকারী রেভিনিউ অফিসার শাহাদত হোসেন এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসসিইসি৭ স্পেকট্রা জেভি-এর পক্ষে মেসার্স শামীম বিল্ডার্সের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকার বাইরে আলাপুর মৌজার বিভিন্ন দাগ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আব্দুল কাইয়ুমের মালিকানাধীন জমি কোনো অনুমতি ছাড়াই কেটে বালু উত্তোলনেরও প্রমাণ পাওয়া যায়, যা চুক্তির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তদন্তে আরও জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষ্য অনুযায়ী রাতের বেলাতেও ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে চুক্তির ১৬ নম্বর শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে।
এছাড়া বালু উত্তোলনের সময় নদীর তীর, সংলগ্ন ফসলি জমি ও পরিবেশের ক্ষতি না করার শর্তও মানা হয়নি। ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, নদীর ঢাল (স্লোপ) সংরক্ষণ করা হয়নি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি। এমনকি বাঁধ ছিদ্র করে ড্রেজারের পাইপ প্রবেশ করানোয় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা জানান, গত ৯ জুলাই খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ভাঙনের স্থানটি অভিযানে শনাক্ত হওয়া ড্রেজারগুলোর অবস্থান থেকে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ মিটার দূরে।
অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে অভিযুক্তদের অপরাধের ব্যাপকতা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিবেচনায় বিষয়টি মোবাইল কোর্টের আওতায় বিচারযোগ্য নয় বলে প্রতীয়মান হয়। তাই মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৬(৪) ধারা অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।