
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে শামিম নামের এক কলেজ ছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর লাশ অভিযুক্তের বাড়ির পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার সকালে লাশ উদ্বার করে। নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের (সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি) শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত অনিককে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে হত্যার শিকার কলেজছাত্র শামিমের ফোন উদ্ধার ও ঘটনাস্থল থেকে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকালে শামিম নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ২ দিন পর ২৩ আগষ্ট নিহতের পিতা বিল্লাল মল্লিক নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে অনিক মোবাইল ফোনে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর থেকে শামিম নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। শামিমের কল লিষ্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার বাড়ির পাশে মাটির নীচে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করে অনিক। পুলিশ তার (অনিক) বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে। মঙ্গলবার সকালে তার দেওয়া তথ্যমতে ঘটনা স্থল থেকে শামিমের বস্তা বন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে ৩০ মিনিটের দেড় লাখ টাকা পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনিক মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।