ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রাজনীতি শুধু কথার ফুলঝুরি নয়

মুহাম্মদ আব্দুন নূর
রাজনীতি শুধু কথার ফুলঝুরি নয়

দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল বাজছে। গ্রাম-গঞ্জে, শহর-নগরের অলিতে-গলিতে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার মহড়া চলছে। নির্বাচনের প্রার্থীরা বাড়ি-বাড়ি, বাসায়-বাসায়, দ্বারে-দ্বারে, হাট-বাজারে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। ভোটারদের সঙ্গে দেখা হলেই মুচকি হাসির সঙ্গে অভিবাদন জানাচ্ছে, হাত মিলাচ্ছে, বুকে জড়িয়ে ধরছে। জনগণের মন গলিয়ে নিজের মার্কার ভোট সংগ্রহের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। কোনো কোনো প্রার্থী তো কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বডি স্প্রে, আতরমাখা নামি-দামি পোশাক নিয়েই জমিতে ধান লাগাতে নেমে যায়। এখন ধান কাটার সৃজন হলে ধান কাটতেও নেমে যেত! অবশ্য ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ করা হয়ে গেলেই নেতা জমি থেকে উঠে আসে! জনদরদী প্রমাণ করার আসল জায়গা তো হলো ফেসবুক। তারপর নেতার ধান লাগানোর ছবি-ভিডিওতে সয়লাব থাকে ফেসবুক। নির্বাচিত হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করবে বলে নানা প্রতিশ্রুতি দেয় নির্বাচনি সভা-সমাবেশে। এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট করবে, বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এসব অবকাঠামো নির্মাণকাজের দায়িত্ব সংসদ সদস্যের নয়। এসব স্থানীয় সরকারের কাজ অর্থাৎ ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পরিষদের কাজ। তাহলে একজন সংসদ সদস্যের কাজ কী? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘জাতীয় সংসদ’ নামে বাংলাদেশে একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত হইবে।’ অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হলো জনগণের স্বার্থে ও কল্যাণে আইন প্রণয়ন করা এবং নির্বাহী বিভাগ যথাযথভাবে সে আইন পালন করছে কি-না, তা তদারকি করা। যদিও সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে বড় কোনো ব্রিজ, হাইওয়ের বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো বড় প্রকল্পের জন্য সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে দাবি উত্থাপন করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছ থেকে বিশেষ বরাদ্দ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের নামে টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট করা সংসদ সদস্যের কাজ নয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি)-এর ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ (১মণ্ড২২তম অধিবেশ, জানুয়ারি ২০১৯-এপ্রিল ২০২৩) প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদের মোট কার্যঘণ্টার মাত্র ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে আইন প্রণয়নের কাজে, যে হার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ক্ষেত্রে ৪৯ দশমিক ৩ এবং ভারতীয় লোকসভার ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ ছিল। মোট কার্যঘণ্টার ৮৩ শতাংশেরও বেশি সময় আইন প্রণয়নবহির্ভূত অন্যান্য কাজে ব্যয় করে একাদশ সংসদ।’

মুহাম্মদ আব্দুন নূর

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত