ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বজ্রপাতের মৌসুম : আতঙ্ক নয়, চাই প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ

জুবাইয়া বিন্তে কবির
বজ্রপাতের মৌসুম : আতঙ্ক নয়, চাই প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ

আকাশ চিরে নেমে আসা হঠাৎ এক ঝলক আলো- তারপরই বিকট বজ্রধ্বনি। প্রকৃতির এই রুদ্র দৃশ্য একসময় ছিল বিস্ময়ের, এখন তা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য এক নির্মম বাস্তবতা এক নীরব ঘাতক, যা প্রতিবছর কেড়ে নিচ্ছে শত শত প্রাণ। বৈশাখণ্ডজ্যৈষ্ঠে দেশের আকাশ যেন অদৃশ্য সংঘর্ষের মঞ্চ। দক্ষিণের উষ্ণ, আর্দ্র বাতাস আর উত্তরের শীতল বায়ুর দ্বন্দ্বে তৈরি হয় বজ্রমেঘ, সেখানেই সঞ্চিত হয় ভয়ংকর বৈদ্যুতিক শক্তি। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকরা হয়ে উঠছেন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এপ্রিল থেকে জুন এই সময়টুকুই এখন বজ্রপাতের মৌসুম। আকাশে কালো মেঘ জমলেই ছড়িয়ে পড়ে অজানা আতঙ্ক গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায় : এই মৃত্যু মিছিল কি অনিবার্য, নাকি সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আমরা এর গতি থামাতে পারি?

বজ্রপাত মূলত এক ধরনের বৈদ্যুতিক নির্গমন, যা আকাশের মেঘ থেকে মাটিতে বা এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে ঘটে। কিন্তু এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি। কারণ, যখন এই উচ্চ ভোল্টের বিদ্যুৎ মাটিতে আঘাত হানে, তখন সে বেছে নেয় সবচেয়ে কাছের এবং উঁচু বস্তু কখনও গাছ, কখনও খুঁটি, আর অনেক সময় একজন মানুষ। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বজ্রপাতের জন্য বিশেষভাবে অনুকূল। দক্ষিণ দিক থেকে আসা উষ্ণ, আর্দ্র বাতাস আর উত্তরের শীতল বাতাসের সংঘর্ষে তৈরি হয় অস্থিতিশীল আবহাওয়া। সেই অস্থিতিশীলতা থেকেই জন্ম নেয় বজ্রমেঘ, আর সেখান থেকেই শুরু হয় মৃত্যুর ঝলকানি। পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

একসময় যে তালগাছ প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক হিসেবে কাজ করত, আজ সেই গাছগুলোই হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের লোভের কাছে। ফলে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক হয়ে পড়ছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে।

পরিসংখ্যান অনেক সময় শুধু সংখ্যা থাকে না; তা হয়ে ওঠে আমাদের সমষ্টিগত ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। বিশ্বজুড়ে প্রতি মিনিটে লাখো বজ্রপাত ঘটলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তথ্য বলছে, দেশে বছরে কয়েক লাখ বজ্রপাত নথিভুক্ত হচ্ছে—যার বড় অংশই কেন্দ্রীভূত থাকে বসন্তের শেষ ভাগ ও বর্ষা শুরুর প্রাক্কালে। মার্চ থেকে মে এই তিন মাসে ঘটে প্রায় ৫৯ শতাংশ বজ্রপাত, আর এপ্রিল থেকে জুন এই সময়টিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত। সবচেয়ে মর্মান্তিক চিত্রটি ফুটে ওঠে প্রাণহানির পরিসংখ্যানে। মোট প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত মৃত্যুর একটি বড় অংশ ঘটে শুধু মে মাসেই যা প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান। কিন্তু এই সংখ্যা নিছক পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার হারানোর বেদনা, একটি স্বপ্নের আকস্মিক অবসান।

বজ্রপাতে নিহতদের পাশাপাশি বেঁচে যাওয়া বহু মানুষ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতায় ভোগেন হৃদযন্ত্রের ক্ষতি, মস্তিষ্কের আঘাত কিংবা স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী বিকলতা তাদের জীবনে নতুন এক সংগ্রামের সূচনা করে। গড়ে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান। গত এক দশকে এই সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে যা নিঃসন্দেহে এক নীরব মহামারির ইঙ্গিত বহন করে। ২০১৬ সালে ১ বছরে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা এখনও এক ভয়াবহ নজির হিসেবে স্মরণ করা হয়। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই অর্ধশতাধিক প্রাণহানির ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে। এমনকি কোনো কোনো দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর আমাদের হতবাক করে দেয়। এই নির্মম বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন মাঠে কাজ করা কৃষকরা যারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে তোলেন। খোলা আকাশের নিচে তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম যেন এক অদৃশ্য ঝুঁকির সঙ্গে লড়াই। ফলে বজ্রপাত আর শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার শ্রমজীবী মানুষের জন্য এক অবিরাম আতঙ্ক, যা আমাদের নীতি, প্রস্তুতি এবং সচেতনতার ঘাটতিকে বারবার সামনে নিয়ে আসে। গ্রামের আকাশে কালো মেঘ জমলেই এক অদৃশ্য সন্ত্রাস নেমে আসে। কৃষক যখন মাঠে লাঙল ধরেন, তখন তাঁর চোখ থাকে শুধু ফসলের দিকে নয় আকাশের দিকেও।

হাওরাঞ্চলে মাছ ধরা জেলেরা কিংবা খেতের মাঝখানে কাজ করা দিনমজুররা জানেন, একটি বজ্রপাত মানেই হঠাৎ মৃত্যু। অনেক সময় কাজের তাগিদে তারা আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পান না। কেউ গাছের নিচে দাঁড়ান, কেউ খোলা জমিতে বসে থাকেন- অজান্তেই ডেকে আনেন বিপদ। বজ্রপাত যেন তাদের কাছে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক স্থায়ী আতঙ্ক। এই আতঙ্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি একটি সামষ্টিক মানসিক চাপ, যা গ্রামবাংলার সামাজিক জীবনে অস্থিরতা তৈরি করছে।

গ্রামের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বজ্রপাত এখন এক অদৃশ্য ভয়ের নাম। হঠাৎ মেঘ গর্জে উঠলে অনেক স্কুলেই ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়, শিশুরা আতঙ্কে দৌড়ে বাড়ির পথে ছুটে চলে। টিনের চালার স্কুলঘর, খোলা মাঠের পাশে অবস্থিত শ্রেণিকক্ষ এসবই তাদের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অনেক অভিভাবক এই মৌসুমে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধা বোধ করেন। ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়। শিশুমনে জন্ম নেয় এক অজানা ভয়, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ এই ভয় দূর করার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ও সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ যা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করেন বজ্রপাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায় হলো সচেতনতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই সচেতনতার অভাবই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আকাশে কালো মেঘ জমলেও অনেকেই কাজ থামান না। বৃষ্টি নামলেই কেউ গাছের নিচে আশ্রয় নেন যা সবচেয়ে বিপজ্জনক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। কেউ আবার খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউবা নদীতে মাছ ধরতে থাকেন। এই অসচেতনতা অনেক সময় মৃত্যুকে ডেকে আনে খুব কাছ থেকে।

বজ্রপাত প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায় কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে। প্রথমত, বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। সাধারণত একটি বজ্রঝড় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয় এই সময়টুকু নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, খোলা মাঠ, উঁচু স্থান বা গাছের নিচে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি হঠাৎ খোলা জায়গায় আটকে পড়েন, তাহলে মাটির সঙ্গে সংস্পর্শ কমিয়ে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে বসে পড়া যেতে পারে, মাথা নিচু করে এবং কান ঢেকে রাখা ভালো।

তৃতীয়ত, বজ্রপাতের সময় জলাশয় নদী, পুকুর বা ডোবা থেকে দ্রুত দূরে সরে আসতে হবে। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহিত করে, তাই পানিতে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চতুর্থত, ঘরের ভেতরে থাকলেও সতর্ক থাকতে হবে। জানালা থেকে দূরে থাকা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা এবং ধাতব বস্তু স্পর্শ না করাই নিরাপদ। পঞ্চমত, যদি গাড়ির ভেতরে থাকেন, তাহলে সেটি তুলনামূলক নিরাপদ হলেও ধাতব অংশ স্পর্শ না করাই ভালো। এছাড়া শিশুদের খোলা মাঠে খেলতে না দেওয়া, ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার না করা এবং বজ্রপাতের সময় দলবদ্ধভাবে না থাকা এসব ছোট ছোট সচেতনতাই বড় বিপদ এড়াতে পারে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বজ্রপাতকে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, একটি ব্যবস্থাপনাযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত পূর্বাভাস প্রযুক্তির মাধ্যমে বজ্রপাতের আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়- মোবাইল ফোনে বার্তা পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের কাছে। অস্ট্রেলিয়ায় স্কুল ও খেলার মাঠে বজ্রপাত সুরক্ষা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়; বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকলে সব কার্যক্রম স্থগিত করা বাধ্যতামূলক। জাপানে বজ্রনিরোধক অবকাঠামো অত্যন্ত উন্নত- উঁচু ভবন থেকে শুরু করে খোলা মাঠ পর্যন্ত সর্বত্র স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক লাইটনিং অ্যারেস্টার। এমনকি অনেক দেশে কৃষকদের জন্য বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে তারা জরুরি সময়ে আশ্রয় নিতে পারেন। বজ্রপাতের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে সরকার ২০১৬ সালে এটিকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন, তালগাছ রোপণ, এমনকি মাল্টিপারপাস শেড নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো এই উদ্যোগগুলোর অনেকই কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কোথাও দুর্নীতি, কোথাও পরিকল্পনার অভাব, কোথাও আবার রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি সব মিলিয়ে অনেক প্রকল্পই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হাওরাঞ্চলে মাল্টিপারপাস শেড নির্মাণের উদ্যোগ নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। যদি এই শেডগুলো সঠিকভাবে নির্মাণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে মাঠে কাজ করা কৃষকদের জন্য এটি হতে পারে এক নিরাপদ আশ্রয়। বিশ্বের অনেক দেশে বজ্রপাতের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে মানুষকে আগেই সতর্ক করা হয়। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। যদি বজ্রপাতের ৩০ মিনিট আগে মানুষকে সতর্ক করা যায়, তাহলে অনেক প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে বজ্রপাত বিষয়ে অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত জরুরি।

বজ্রপাত কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় এটি আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বের একটি বড় পরীক্ষা। যখন একজন কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান, তখন সেটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয় এটি আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। আমরা যদি সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি, এবং সামান্য কিছু সতর্কতা মেনে চলি তাহলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

বজ্রপাতের তীব্র ঝলকানি যতই চোখ ধাঁধানো হোক, তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে এক নিঃশব্দ অন্ধকার হারিয়ে যাওয়া জীবনের, থেমে যাওয়া স্বপ্নের। তবুও এই অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়; কারণ তাকে প্রতিরোধ করার শক্তি মানুষের মধ্যেই নিহিত। প্রকৃতিকে থামানো আমাদের সাধ্যের বাইরে, কিন্তু তার সঙ্গে সহাবস্থানের জ্ঞান ও প্রস্তুতি অর্জন করা আমাদেরই দায়িত্ব। সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর উদ্যোগ মিলেই পারে এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে এক দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। এই প্রেক্ষাপটে আজকের বাংলাদেশে এক নতুন প্রত্যাশার আলো জ্বলছে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও দূরদর্শী নীতিনির্ধারণে। তার নেতৃত্বে দুর্যোগব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা, প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাস এবং গ্রামীণ সুরক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

এই নেতৃত্বই পারে বজ্রপাতের মতো অনিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক ঝুঁকিকেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিসরে আনতে মানুষের জীবনকে দিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। আকাশে মেঘ জমলেই যেন আর আতঙ্ক নয়, জেগে ওঠে প্রস্তুতির বোধ।

বজ্রপাতের শব্দ হয়ে উঠুক সতর্কতার বার্তা, ভয়ের নয়। গ্রামবাংলার বিস্তীর্ণ মাঠ থেকে শুরু করে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ কিংবা শহরের ব্যস্ত জীবন সবখানেই গড়ে উঠুক সচেতনতার সংস্কৃতি। প্রত্যাশা এখানেই দৃঢ় নেতৃত্ব, সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদিন বজ্রপাত আর মৃত্যুর প্রতীক হয়ে থাকবে না; বরং হয়ে উঠবে একটি নিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক বাস্তবতা, যার সঙ্গে নিরাপদে বাঁচতে শিখবে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্নই আজ আমাদের শক্তি, সেই প্রত্যাশাই আমাদের অঙ্গীকার।

জুবাইয়া বিন্তে কবির

অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত