প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
সম্প্রতি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকার দরুন মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়িয়ে ঘটনাটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। মিঠাপুকুরের বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে চলতি ২০২৬ সেশনে এসএসসি ও সমমানের ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার দিনের সেই ঘটনা দেশব্যাপী চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
গণমাধ্যম সূত্র জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের ১৭টি কক্ষে ৮৫৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। সকাল থেকে ছিল না বিদ্যুৎ। মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে তারা। জ্বালানি তেলের বাজারে যেমন স্বস্তি ফেরেনি তেমনি বিদ্যুৎ খাতেও পড়েছে এর প্রভাব। সেই প্রভাব গিয়ে ঠেকেছে মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার নামের স্কুলটিতে। অবস্থা এমন, যিনি ছড়ালেন শিক্ষার দ্যুতি তার নামের প্রতিষ্ঠানেই নেই আলো। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, সড়ক পরিবহন, নৌপরিবহন আর হাহাক ার- এসব শব্দে বন্দি হয়ে পড়ছে পুরো দেশ। আর সেই বন্দিদশার কপালে পেরেক মেরেছে রংপুরে মোমবাতি জ্বালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
এটি নিয়ে সারাদেশ তোলপাড় হলেও টনক নড়েনি ঘুমিয়ে পড়া সরকার সংশ্লিষ্টদের। টনক না নড়ার মানে এই- শুধু দায়সারা বক্তব্য দিয়ে পুরোদস্তুর নিজের দায়িত্ব এড়িয়েছেন সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। মো. পারভেজ নামের ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনেকাংশে চিরচেনা প্রবাদ বাক্য, কুকুরের গায়ে বিড়াল আর বিড়ালের গায়ে কুকুর ফেলার মতো। তিনি বলেছেন, সেখানে কেন্দ্রসচিবের একটি ভুল ছিল। কেন্দ্রসচিব তাকে বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়টি জানাননি। অবশ্য, জানানোর পরে তিনি যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তা আর আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। কারণ সেটি দায় এড়িয়ে লেজেগোবরে মাখামাখি হয়ে গেছে। এই দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বর্তমানে রাষ্ট্রযন্ত্রের অলিখিত নীতি হতে যাচ্ছে কী না? সেটি গভীর প্রশ্নও বটে। দায় দিয়ে দাও সংস্কৃতির রেষারেষিতে যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের ছোট্ট মনের দুর্বিষহ প্রভাব নিয়ে ভাববেই বা কে? যে শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পেরিয়ে পড়াশোনা করে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিয়েছে তাদের জন্য এমন অভিজ্ঞতা আর যাই হোক দুর্ভোগের পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনের চেয়ে কম না।
আমরা সব সময় শুনে এসেছি ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশের বুলি। নামের আগে স্মার্ট আর ডিজিটাল লাগিয়ে দিলে যে, দেশ ডিজিটাল হবে না সেটি পতিত সরকার বুঝতে পারেনি। মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেওয়ার ভাইরাল ঘটনাটি দেখে পরিস্থিতি হয়তো বলছে, এই সরকারও এগোচ্ছে নামমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে। বস্তুত নামের বেলায় সোয়া শের, কাজের বেলায় ঠনঠন হাল।
এমন অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে করণীয় কী হবে সেটি নিয়েও স্বীদ্ধান্ত নিতে হবে আগেভাগে।
জিহাদ হোসেন রাহাত
শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি