প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আশির দশকের কথা, উচ্চশিক্ষার জন্য ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে যেতে হতো। যাতায়াত ব্যবস্থা সে সময় তেমন উন্নত ছিল না। শিক্ষার্থীদের গাড়িতে ঝুলে যাতায়াত করতে হতো। নিয়মিত ক্লাস করতে গিয়ে তাদের পড়তে হতো চরম বিড়ম্বনায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ত। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজ। শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব হাসান উদ্দিন সরকার, মোশাররফ হোসেন দুলাল ও আলহাজ্ব ফজলুল হক মুসল্লিসহ অন্যান্য স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অক্লান্ত পরিশ্রমে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ভাওয়াল মির্জাপুর ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ ও আস্থার ঠিকানা। যা হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় সারাক্ষণ মুখরিত থাকে । একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সাফল্য মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো একাডেমিক ফলাফল। এ দিক থেকে কলেজটি বর্তমানে ভালো অবস্থানে আছে। ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো হয়েছিল। ৩২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯৯ জনই কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ১৬ শতাংশ।
বর্তমানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে কর্মরত, গাইনি বিশেষজ্ঞ আফরোজা আক্তার তিনি এ কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধীরে ধীরে শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়েছে। বর্তমানে এখানে এইচএসসি ও ডিগ্রির পাশাপাশি সাতটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ রয়েছে। যে সাতটি বিষয়ে অনার্স রয়েছে সেগুলো হলো বাংলা, সমাজকর্ম, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা , হিসাববিজ্ঞান ও মার্কেটিং। কলেজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল বারী সাহেব বলেন, 'এটি গাজীপুর জেলার মধ্যে অন্যতম সেরা কলেজ। এখানে শুধু একাডেমিক বিষয়ই শিক্ষা দেওয়া হয় না; বরং শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা শিক্ষা দেওয়া হয়। যা শিক্ষার্থীদের মনুষ্যত্ব বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।' খালেদ মাহমুদ নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ' পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষকরা অত্যন্ত আন্তরিক। পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো তারা অত্যন্ত চমৎকারভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। ক্লাসরুমে আমাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করেন। কিন্তু ক্লাসরুমের বাইরে তারা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ও গম্ভীরভাবে কলেজের নিয়মনীতি মানতে বাধ্য করেন।' কলেজের ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা বিষয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে গাজীপুর জেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী সোহাগ হোসেন বলেন, 'শিক্ষকদের উচিত, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা। জীবনে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা দেওয়া। যা শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদেরকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাহলে পূর্ণ হবে কলেজ প্রতিষ্ঠাকারী মহান ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।' পরিশেষে বলা যায়, কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে কলেজের সুনাম ও সাফল্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি বহুদূর এগিয়ে যাবে। অচিরেই কলেজটি দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান দখল করে নেবে।
লেখক : প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।