ঢাকা শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঢাকা সফরের অপেক্ষায় শেহবাজ শরিফ

ঢাকা সফরের অপেক্ষায় শেহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সফর করার অপেক্ষায় রয়েছেন। সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিনবিষয়ক ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এমনটি জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত বছর নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এসব বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

জেদ্দায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ আলখারিজি; তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া; ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। বৈঠকে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।তারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তারা একইসঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হন।

রোহিঙ্গাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তারা এই সংকট দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণপত্র দেন খলিলুর রহমান। সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও একমত হন তারা। ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চান সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলখারিজি। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরব-ইসলামিক ব্লক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা লড়ার জন্য গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আগামী এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যৌথভাবে একটি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এ ছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থনের আশ্বাস দেন এনজি।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে ইসরায়েলি পদক্ষেপের নিন্দা বাংলাদেশের : অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি-সংক্রান্ত আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উন্মুক্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে এ নিন্দা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এসময় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি ক্রয়সংক্রান্ত আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বলেন, এই আইন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আল-কুদস আল-শরিফও অন্তর্ভুক্ত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয় সহজ করা এবং ভূমি নিবন্ধন উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি ভূমির মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তিকে দুর্বল করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দীর্ঘদিনের এই সংকটের কার্যকর সমাধান হতে পারে। ইসরায়েলের ভূমি-সংক্রান্ত আইন প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য অবাধ ও শর্তহীন প্রবেশাধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর প্রতি রমজানের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। ওআইসি বৈঠকের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাকলিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান। তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত