ঢাকা শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে’- সরকারকে জামায়াতের কড়া হুঁশিয়ারি

‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে’- সরকারকে জামায়াতের কড়া হুঁশিয়ারি

জুলাই গণহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন দেওয়া এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অভিযোগ করেছে, এসব পদক্ষেপ দেশের গণতন্ত্র ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত এবং এর মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের’ অপচেষ্টা চলছে। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে দলটির কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।”

“ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের দোসররা ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা কায়েম রেখেছিল। সেই শক্তিকে পুনর্বাসনের যেকোনো উদ্যোগ দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।” বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। একই দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিও জামিন পেয়েছেন। জামায়াতের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন জেলায় পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ব্যাপক হারে জামিন প্রদান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জামিনে মুক্ত হয়ে কিছু ব্যক্তি লুটপাট ও সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতিতে আরও বলেছেন, “শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি কারাগারে থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে পুনরায় হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।” জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উপেক্ষা করে কথিত পুলিশ হত্যা তদন্তের নামে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, “যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তারা আত্মঘাতী পথে হাঁটছেন।” সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আবদুর রহমান বদি ও সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন বাতিল করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যেসব কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।” অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

মন্ত্রিপর্যায়ের কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে- শফিকুর রহমান : মন্ত্রিপর্যায়ের কাঁচা কথাবার্তা সমাজকে অস্থির করে অপরাধকে উসকে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলের নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান। শুক্রবার বাদ জুম্মা সিলেটের কুদরত উল্লাহ মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে সরকারদলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি, এমনকি মন্ত্রীপর্যায় থেকে এমন কিছু কাঁচা কথাবার্তা বলেছেন; যেটা সমাজকে এখন অস্থির করে তুলছে এবং অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। এই সমস্ত দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাণ্ডকারখানা চলতে থাকলে, এই দেশ ভালোর দিকে যাবে কীভাবে? তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশে কিছু বিদ্যমান সমস্যা আমরা দেখতে পাচ্ছি। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব, এদিকে সরকার যেন যথাযথ মনোযোগ দেয় এবং বিশেষ করে সরকার দলীয় কেউ যেন এই সমস্ত অপরাধের দায় দায়িত্ব না দিয়ে অপরাধীদের পাশে না দাঁড়ায়। যদি অপরাধীদের পাশে সরকারি দলের লোকরা দাঁড়ানো শুরু করেন, তাহলে এই সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা একেবারেই অসম্ভব। তারা যদি সদিচ্ছার পরিচয় দিতে পারেন, সমজটাভালো হবে। রাষ্ট্রপতির বিষয়ে অভিসংশনের প্রস্তাব দিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে এখনও দলীয় ফোরামে সেরকম কিছু বা বড় পরিসরে আলোচনা করিনি। আমরা সবগুলো বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে যেটা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে, মঙ্গলজনক হবে; সেই সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরও বলেন, এ সমাজকে আমরা ভালোবাসি। এ দেশ আমাদের প্রিয় দেশ। দেশ ভালো থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো থাকব। দেশ যদি খারাপ হয়, আমরা ভালো থাকতে পারব না। সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি কোন ভালো কাজ করার উদ্যোগ নেয়, অবশ্যই আমাদের সমর্থন পাবে। কিন্তু সরকার যদি জনগণের ক্ষতি করে, পরিবেশের ক্ষতি করে এবং আল্লাহর দ্বীনেরও কোনো ব্যাপারে যদি সরকার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যায়, আমরা সেখানে ছাড় দিয়ে কথা বলব না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত