ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মডেল মসজিদের ব্যয় বৃদ্ধির ‘তদন্ত হবে’

মডেল মসজিদের ব্যয় বৃদ্ধির ‘তদন্ত হবে’

মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রতিটি মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২১ কোটি টাকা কীভাবে হয়েছে, সেই তদন্তে সরকারের অন্য সংস্থাও যুক্ত হতে পারে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের পক্ষে প্রশ্নের উত্তর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, গত ১৬ বছরে প্রতিটি মডেল মসজিদের জন্য ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যয়ের তদন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এত টাকার অপচয় হয়েছে। এখন নতুন মসজিদের দরকার নেই। যারা অতীতে ১৩ কোটিকে ২১ কোটি করেছে, সব মসজিদগুলো ভেঙে পড়েছে। আমার সেনবাগের মডেল মসজিদে প্রবেশ করা যায় না, পানি পড়ে।’ এসব অনিয়ম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা জানতে চান তিনি। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘সেনবাগের যে অবস্থা, আমার দূর্গাপুরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সামনে বিরাট বড় পুকুর, এর পেছনে মডেল মসজিদ, একটা ব্রিজ করে মডেল মসজিদে যেতে হবে। স্থানীয় লোকজন নাম দিয়েছে তাজমহল। মসজিদের সামনে বিরাট আকারে পুকুর থাকায় মানুষ নাম দিয়েছে দুর্গাপুরের তাজমহল। এটাতে প্রবেশ করতে ব্রিজ করতে হবে।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদ’ সরকারের সময়ে অর্থ লোপাটের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমি বলছি না পদ্মাসেতুর মত দুর্নীতি এখানে হয়েছে। তবে ইসলামের নামে, মসজিদের নামে তারা যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ।’ মডেল মসজিদ নির্মাণকে ‘অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন যথাযথ ছিল কি না, সেটি ‘যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন’। তিনি বলেন, ‘১৩ কোটি ব্যয় ২১ কোটিতে বৃদ্ধি হয়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাহেবের যে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে মেগা দুর্নীতির জন্য মেগাপ্রকল্পের জন্য মেগা বাজেট নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাঁচবছর থেকে সাতবছর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, দেশে নিবন্ধিত ওয়াক্?ফ সম্পত্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ দশমিক ৯৮ একর।

অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৫৩ একর ওয়াক্?ফ সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। নরসিংদী-১ আসনের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে সম্মানী দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চার হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, চার হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, তিন হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ এবং ৬৭ জন বৌদ্ধ উপাধ্যক্ষ রয়েছেন। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে পর্যায়ক্রমে চলমান কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত