
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে লাগাম টানতে পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে মায়েদের সচেতন করতে বিশেষ প্রচারণামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা উদ্বেগজনক। এই হারকে একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী জোরদার জন্মনিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করবে। গ্রামীণ পর্যায়ে একসময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর যে সহজলভ্যতা ছিল, তা আবার ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটসের (স্প্ল্যাশ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সঠিক রোগ নির্ণয় ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে চলতি বছরই উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপন করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে যাচ্ছি। এ জন্য চলতি মাসে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করব।’
শুধু তাই নয়, দেশের মানুষকে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়ার জন্য জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি শয্যা, জেলা হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের ধারাবাহিক উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিটি উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের ১৮ কোটি মানুষের অভিভাবক হিসেবে সেই ৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করেন। বর্তমানে এই ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
আদণ্ডদ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত
আদণ্ডদ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবি করে পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে। সরকার পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আদণ্ডদ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তাই ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং কর্তৃপক্ষ সেগুলো সংস্কারের কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
নকল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দল (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)-এর সদস্য মো. নূরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ ও বিক্রয় প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ওষুধের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাগারে মান যাচাই, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
মন্ত্রী বলেন, নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ বা বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল, ওষুধ জব্দ ও ধ্বংসসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের তদারকি আরও জোরদার করতে সরকার জনবল বৃদ্ধি, পরিদর্শন কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি, আধুনিক পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে পরিদর্শনের আবেদন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। পরিদর্শনে সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেনেছি। তবে এ ঘটনায় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালত ও আইন অনুযায়ী হবে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনও হাসপাতালটিকে কোনো চূড়ান্ত ছাড় দেয়নি। পুনরায় পরিদর্শনের পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা-উপজেলায় হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে ডায়ালাইসিস বেড
সরকার জেলা ও উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে, বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি নতুন ডায়ালাইসিস বেড যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান। আর জেলা সদর হাসপাতালে স্থাপন করা হচ্ছে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড।
মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি উপজেলায় ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী। ব্র্যাক আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’ উদ্যোগের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দেশে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্মের হার বাড়ছে, বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পেছনে কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একদল দালাল মায়েদের ঘর থেকে এমন চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যায়, যারা সরাসরি অন্তঃসত্ত্বাদের অস্ত্রোপচারের কক্ষে নিয়ে যায়। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর শিশুদের মায়েদের শালদুধ খেতে দেওয়া হয় না। এটা শিশুদের পরবর্তী পুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতির কারণ হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সিজারিয়ান অপারেশন একটি দালাল চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে। তারা আমাদের মায়েদের এমন চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যায়, যারা সিজারিয়ান অপারেশন করেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনিসেফ এবং বেশ কিছু দাতাদেশের প্রতিনিধিদের বরাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার তথ্য পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য শেষ করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় এসেছে বলেন তিনি। এই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান।
মন্ত্রী বলেন, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকার প্রসূতি সেবায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পেশাদার (মিডওয়াইফ) এবং পরিচর্যাকারী নিয়োগ দেবে। যারা আধুনিক স্ক্রিনিং মেশিন নিয়ে সরাসরি গ্রামীণ মায়েদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।
চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং চলতি মাসেই দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক জানায়, মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য ব্র্যাক-লেগো ফাউন্ডেশন ‘স্প্ল্যাশ’ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় ৫ বছরে বাংলাদেশ ও উগান্ডার চার লাখ শিশু পাবে খেলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ।
উদ্বোধনী অধিবেশনে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, কক্সবাজারে অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেখানে মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ, খেলাধুলা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছে ব্র্যাক। সংস্থাটি গত তিন বছর ধরে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কম খরচে টেকসই মডেলের মাধ্যমে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, ওয়ান-রুম স্কুল এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে খেলাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিশুদের বিকাশে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম। তিনি বলেন, কর্মসূচির আওতায় দেশের ৪৩টি জেলা ও সাতটি সিটি কর্পোরেশনে মা-শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৬১টি জেলায় চক্ষুসেবা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তিন লাখ মানুষকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খেলার ছলে প্রারম্ভিক শিশুবিকাশ ও মায়েদের মানসিক সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে সংস্থাটি।
সারা দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু উন্নয়নে ব্র্যাক এবং লেগো ফাউন্ডেশন কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান তারেক আলামি।
রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে ব্র্যাকের নতুন উদ্যোগ ভালোভাবে পরিচালিত হবে, সেই আশা প্রকাশ করেন এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ জাকারিয়া। এই উদ্যোগ যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পরবর্তী পরিচালনা করা হয়, সে বিষয়ে দাতা সংস্থার কাছে আহ্বান জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
আয়োজকরা জানান, বর্তমানে বিশ্বে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। এর মধ্যে ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। এসব এলাকায় শিক্ষা, সুরক্ষা ও মানসিক-সামাজিক সহায়তার সুযোগ খুবই সীমিত।
এই বাস্তবতায় ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন ৫ বছর মেয়াদি পাঁচ কোটি মার্কিন ডলারের অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডার চার লাখ শিশু-কিশোরকে সহায়তা দেবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
বাংলাদেশে চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘স্প্ল্যাশ’ প্রকল্পের আওতায় জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের খেলাভিত্তিক শিক্ষা, প্রাক্?-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ, জীবনদক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ, জীবিকায়নের সুযোগ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা জোরদার করা হবে।
শিশুদের জন্য খেলাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্বের নানা দিক তুলে ধরেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইইডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মরিয়াম। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন (গ্লোবাল) কর্মসূচির প্রধান ডা. রাফিয়াত রশীদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অংশীজনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।