
ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের অনন্য সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মতো ধর্মীয় সম্প্রীতি পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। এই সম্প্রীতি আমাদের অনন্য সম্পদ। বিশ্বের অনেক বড় গণতান্ত্রিক দেশেও এ ধরনের সম্প্রীতির নজির দেখা যায় না। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্গাপূজার মণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়ায় সিসিক প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার সর্বদা সচেষ্ট। তিনি বলেন, সিলেটের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরে আমি মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শন করেছি। এসব প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে।
সিলেটের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলোর উন্নয়নেও টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন যেভাবে নগরীর সড়কগুলোর উন্নয়ন করছে, একইভাবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়কগুলোর উন্নয়নেও টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। শিগগিরই এসব কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ক্বিনব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির সমস্যা নিরসনে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চেঙ্গেরখালের পানি শোধন করে নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণ করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন মানবকল্যাণে কাজ করে এবং নগরবাসীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ধর্মীয় উৎসব পালনে সহযোগিতা করাও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে এবারও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের দিকনির্দেশনায় এবার পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদানের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই, নগরবাসী আরও সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে যেকোনো প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি পূজামণ্ডপ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। এ সময় সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। সিলেট নগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।