
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে তৈরি হয়েছে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। একদিকে কমেছে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ আসন। বিপরীতে এবার পরীক্ষায় পাস করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজার আসন ফাঁকা থাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে।
এতে একদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেলসহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে তৈরি হচ্ছে বিপুলসংখ্যক আসন পূরণের চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষায় এবার আসন সংকটের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে শিক্ষার্থী ও আসনের অসম বণ্টনের বাস্তবতা। ফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়েছিলেন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সে হিসাবে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৪৮ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। তবে শুধু পাসের হারই নয়, সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যাতেও বড় পতন দেখা গেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩। লিঙ্গভিত্তিক ফলে পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে উত্তীর্ণ ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন এবং ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য এগিয়ে ছাত্ররা। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন। প্রতিষ্ঠানিক ফলেও রয়েছে বড় ব্যবধান। এবার ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, বিপরীতে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
এই ফলের বিপরীতে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আসনসংখ্যা বিশ্লেষণ করলে ব্যবধানের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আসনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৪ লাখ ১০ হাজার আসন রয়েছে। বিপরীতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। দুই পরিসংখ্যানের ব্যবধান ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি আসন। অর্থাৎ পাস করা সব শিক্ষার্থী কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও মোট আসনের অর্ধেকের বেশি অব্যবহৃত থেকে যাওয়ার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই হিসাব সামগ্রিক আসন ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনাভিত্তিক। বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা, ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের পছন্দ এবং প্রতিষ্ঠানভেদে ভর্তির শর্তের কারণে বাস্তবে সব আসন সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত নয়।
সামগ্রিকভাবে আসন উদ্বৃত্ত থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তির প্রতিযোগিতার চিত্র হবে সম্পূর্ণ আলাদা। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। অর্থাৎ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় এই আসনসংখ্যা অনেক কম। হিসাব অনুযায়ী, পাস করা শিক্ষার্থীদের মাত্র ৯ দশমিক ৮ শতাংশের জন্য রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে পড়ার সুযোগ। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অধিভুক্ত কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আসনসংখ্যা বিশ্লেষণেও এই প্রতিযোগিতার চিত্র পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে আসন রয়েছে ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি। প্রকৌশল শিক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আসন ১ হাজার ৩০৯টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ১ হাজার ২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ হাজার ১০৫টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি।
এদিকে কৃষিশিক্ষায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১০টি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১টি এবং খুলনা ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে ১৫০ ও ৮৪টি আসন রয়েছে। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬৩৬টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১০৯টি, হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ১০০টি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬১১টি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯৫৭টি আসন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সীমিত আসনের বিপরীতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার ৮৪ জনসহ ভালো ফল করা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবেদন থাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পছন্দের বিষয় ও প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেতে মেধাতালিকায় অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্বাস্থ্যশিক্ষা ও মেডিকেল ভর্তি পরিস্থিতিও এই সামগ্রিক আসন উদ্বৃত্তের হিসাব থেকে আলাদা। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক শর্ত ও পৃথক ভর্তি পরীক্ষা। দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ১টি। এর বাইরে ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১ হাজার ৪৮৬টি, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩ হাজার ৯০৫টি এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫ হাজার ৯৭১টি আসন রয়েছে। ডেন্টাল শিক্ষায় সরকারি কলেজগুলোতে ৫৪৫টি এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোতে ১ হাজার ৪৯০টি আসন নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি আর্মড ফোর্সেস ও আর্মি মেডিকেল কলেজগুলোতে রয়েছে ৩৭৫টি আসন। ফলে সামগ্রিক উচ্চশিক্ষায় আসন উদ্বৃত্ত থাকলেও মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষায় সীমিত আসনের বিপরীতে যোগ্য প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর ও মেধাক্রমের ভিত্তিতে সুযোগ নির্ধারিত হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতার চাপ আলাদা গুরুত্ব পাবে। তবে আসন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার এই ব্যবধানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের বাইরের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট আসন রয়েছে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলোর। এসব প্রতিষ্ঠানে স্নাতক পর্যায়ে আসন রয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি। এ ছাড়া ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ১৮ হাজার ৮৮৬টি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৮টি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ৯০টি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ১ হাজার ৪৪০টি আসন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আসন পূরণ অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পছন্দ, অবস্থান, আর্থিক সামর্থ্য ও বিষয় নির্বাচনের ওপর। ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বিভাগভিত্তিক আসন পূরণ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দেশে অনুমোদিত ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকলেও মধ্যম ও নতুন পর্যায়ের অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তির ওপর নির্ভর করে একাডেমিক কার্যক্রম ও আর্থিক পরিকল্পনা পরিচালনা করে। এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সম্ভাব্য শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেছে। এর প্রভাব পড়তে পারে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান টিউশন ফির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তি, বিভাগ পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষার্থীর চাহিদা ও ভর্তি পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একই ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সম্প্রতি তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতার শর্ত কতটা শিথিল করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি যোগ্যতার মানদণ্ড কতটা শিথিল করবে, তা সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের বিবেচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি বা সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বুধবার (৪ নভেম্বর)। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা বোর্ডগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় আলোচনা ইতিবাচক হলে বুধবারই আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করা হতে পারে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষা শুরু হতে পারে। এ পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কারা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সম্পূরক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলবে। এরপর ২ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১ নভেম্বর। শিক্ষার্থীরা আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাছ থেকে আবেদনকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ থেকে ১২ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের পরীক্ষক নিয়োগ ও উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে। ১৩ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলবে।