ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সম্প্রতি ইয়েমেনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে গতকাল সোমবার ভোরে অধিকৃত ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি আনসারুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। আল-জাজিরার উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের জানায়, ইয়েমেনে জায়নিস্ট বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হুথি আনসারুল্লাহ ইসরাইল অধিকৃত ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানায়, গতকাল সোমবার ভোরে ইয়েমেন থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ হামলার পর অধিকৃত ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে মৃত সাগরের (ডেড সি) তীরবর্তী অঞ্চলসহ অনেক জায়গায় সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে এবং এর ফলাফল এখনও মূল্যায়নের অপেক্ষায়। এদিকে হুথি আনসারুল্লাহর গণমাধ্যম কার্যালয়ের উপপ্রধান নাসরুদ্দিন আমের বলেন, ‘তেলআবিবের বর্বরতার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা ইয়েমেন দেখিয়েছে। যারা গাজা ও আমাদের ওপর হামলা চালায়, তারা যেন শান্তিতে ঘুমাতে না পারে। জায়নিস্টদের এখন তাদের বাংকারে চলে যাওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজার ফিলিস্তিনিরা একা নয়, আর ইয়েমেন অপমান সহ্য করে ঘুমিয়ে থাকবে না।’ এর আগে, গত রোববারও একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হামলা চালায় ইয়েমেনি বাহিনী। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার পর তেলআবিবের বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়। হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দখলকৃত কুদস শহরের কাছাকাছি বেইত শেমেশ শহরের আশপাশে আগুন ধরে যায়।

পরে ইয়েমেনের তিনটি বন্দর ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল ভোরে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে প্রায় এক মাস পর ইয়েমেনে হামলা চালাল ইসরায়েল। আইডিএফ বলেছে, হোসেইন, রাস ইসা ও সালিফ বন্দর এবং রাস কান্তিব বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। কারণ, হুথিরা বারবার ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাচ্ছিল। হামলার পর হুথি আনসারুল্লাহর এক মুখপাত্র বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইসরায়েলি হামলা প্রতিহত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দরনগরী হোদেইদাহয় ইসরায়েলি হামলার কারণে প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুরো শহর অন্ধকারে ডুবে গেছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরা টিভি জানিয়েছে, ইসরায়েল হোদেইদাহ বন্দরে একের পর এক হামলা চালিয়েছে। এর ঠিক আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইয়েমেনের তিনটি বন্দর থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানায়, ইয়েমেনের রাস ইসা বন্দরে ‘গ্যালাক্সি লিডার’ নামের একটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে হুথিরা জাহাজটি দখল করেছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও লোহিত সাগরের জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়েই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত