
প্রযুক্তির যুগে ফোন, ল্যাপটপের মতো দিন দিন উন্নত হচ্ছে দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস। ওয়াশিং মেশিনও ব্যতিক্রম নয়। আরও আধুনিক, আরও স্মার্ট হচ্ছে এই যন্ত্রগুলো। যত আধুনিক হচ্ছে, ততই মানুষের প্রয়োজন বাড়ছে। যত প্রয়োজন বাড়ছে, ততই আধুনিক হচ্ছে যন্ত্রপাতি। তাই এখন, অর্থাৎ ২০২৬ সালে ওয়াশিং মেশিন কিনতে গেলে পুরনো দিনের যন্ত্র কিনবেন না। তাতে নিরর্থক হাজার হাজার টাকা খরচ হবে। এর পাশাপাশি কাপড় কাচার যন্ত্র কেনার সময়ে বেশ কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে।
ফোন-ল্যাপটপের মতো নানা ধরনের প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে কাপড় কাচার মেশিনেও। নিজের ফোন বা ঘরের ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে পারবেন। কতো পরিমাণ সাবান প্রয়োজন, তা মেশিনই নির্ধারণ করে দেবে। নিজে নিজেই মেশিন পরিষ্কারের প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও কিছু নিদর্শন পাওয়া যাবে নতুন ফিচারে। সে সব নিজের প্রয়োজন মতো দেখে কিনতে পারেন।
কোনো ক্ষেত্রে ৪৫ মিনিটের জন্য কাপড় কাচতে পারবেন, কোনো ক্ষেত্রে আবার একবার ঘুরিয়ে কেচে নিতে পারবেন। কখনও অন্তর্বাস বা দামি কাপড় কাচবেন, কখনও জিন্স বা বাইরের ব্যাগ কাচবেন। কোনও দিন শুধু গরম পানির ভাপ প্রয়োজন, কোনো দিন দাগ তোলার জন্য অনেকখানি কসরত করতে হবে। আপনাকে সমস্ত প্রয়োজনের মতো ফিচার আছে কি না, সব দেখে নিয়ে তার পরই কিনবেন। মনে রাখবেন, যে কোনো ফিচারই যে আপনার কাজে লাগবে, তা কিন্তু নয়। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই কিনুন। আধুনিক যে ধাপগুলোর প্রয়োজন, সে দিকে বিশেষ নজর দিন। লোভ সংবরণ না করতে পেরে নানা বৈশিষ্ট্যসহ যন্ত্র কিনে ফেললে অর্থহীন খরচ হবে।
ওয়াশিং মেশিন কেনার সময়ে প্রথম যে বিষয়টি দেখা উচিত, তা হলো মেশিনের ধারণ ক্ষমতা। অর্থাৎ এক বারে কতোখানি জামাকাপড় ভরা যায়। নানা মাপের মেশিন হয়। তার ওপরে দাম নির্ভর করে। সাধারণত ‘কিলোগ্রাম’-এ মাপা হয়। এক বা দুজনের সংসারে ৬-৭ কেজির মেশিন চলে যায়। ৪-৫ জনের পরিবারে ৭-৮ কেজির মেশিন কিনলেই চলবে। তার চেয়ে বেশি দরকার পড়লে ৮-১০ কেজির যন্ত্র লাগবে।
মেশিন কেমন চলবে, তা নির্ভর করে মোটরের ধরনের ওপর। এখন ইনভার্টার মোটর বেরিয়েছে বাজারে। সেগুলো ব্যবহার করলে এক দিকে যেমন বিদ্যুৎ খরচ কম হবে, অন্য দিকে আওয়াজ কমবে, তা ছাড়া মোটরের মেয়াদও বেশি। বাথরুমে বা রান্নাঘরে অথবা খাওয়ার ঘরেই আজকাল ওয়াশিং মেশিন রাখা হয়। ফলে ছোট জায়গায় মেশিনের আওয়াজ আরও বেশি কানে লাগে। এমন মেশিন কিনবেন, যেটিতে শব্দ তুলনামূলকভাবে কম হয়। তাতে বিরক্তির উদ্রেক হবে না।
মনে রাখবেন, যে কোনো ফিচারই যে আপনার কাজে লাগবে, তা কিন্তু নয়। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই কিনুন। আধুনিক যে ধাপগুলোর প্রয়োজন, সে দিকে বিশেষ নজর দিন। লোভ সংবরণ না করতে পেরে নানা বৈশিষ্ট্যসহ যন্ত্র কিনে ফেললে অর্থহীন খরচ হবে।