ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বাহিনীর জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা

বাহিনীর জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা

অপরাধী শনাক্তকরণ এবং অভিযান পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তির একটি হলো ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’। এটি মূলত ছোট আকারের একটি শক্তিশালী ক্যামেরা যা পোশাকের ওপর পরিধান করা হয়। পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্মে থাকা এই ক্যামেরা শুধু অপরাধীদের গতিবিধি নয়, বরং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত সদস্যদের কর্মকাণ্ডও রেকর্ড করে থাকে।

বডি ওর্ন ক্যামেরা হলো- বহনযোগ্য এক ধরনের অডিও-ভিজ্যুয়াল রেকর্ডিং ডিভাইস। এটি সাধারণত পুলিশের বুক বা কাঁধের কাছে ইউনিফর্মে আটকানো থাকে। এতে উচ্চমানের লেন্স এবং মাইক্রোফোন থাকে যা সরাসরি ভিডিও এবং অডিও ধারণ করতে সক্ষম। অনেক উন্নত ক্যামেরায় নাইট ভিশন এবং লাইভ স্ট্রিমিং সুবিধাও থাকে, যার মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করা যায়। বাজার এবং মানভেদে বডি ওর্ন ক্যামেরার দামে ভিন্নতা রয়েছে। মূলত ক্যামেরার রেজুলেশন, স্টোরেজ ক্ষমতা এবং ব্যাটারি ব্যাকআপের ওপর এর দাম নির্ভর করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে উন্নত মানের ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করে সেগুলোর দাম ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে। উন্নত মানের ক্যামেরায় ডেটা এনক্রিপশন থাকে যাতে ভিডিও ডিলিট বা পরিবর্তন করা না যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে এই ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দিষ্ট প্রটোকল রয়েছে- ডিউটি শুরুর আগেই ক্যামেরা চার্জ করা এবং মেমোরি চেক করা বাধ্যতামূলক। সাধারণত কোনো তল্লাশি, অভিযান বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় এটি সচল রাখতে হয়। ধারণকৃত ভিডিওগুলো নির্দিষ্ট সার্ভারে জমা রাখা হয় এবং তদন্তের প্রয়োজনে ডিজিটাল এভিডেন্স হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়। অনুমতি ছাড়া এই ক্যামেরার ফুটেজ ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয়।

বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এর ব্যবহার নিয়ে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে- ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য কেউ চাইলে সাইকেল চালানো বা ভ্রমণের সময় এটি ব্যবহার করতে পারেন। কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরে বা নিষিদ্ধ এলাকায় ভিডিও রেকর্ড করা বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে। সাধারণ মানুষের এমন কোনো ক্যামেরা বা গিয়ার ব্যবহার করা উচিত নয়, যা দেখে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে ভুল হতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত