
দিনাজপুরে ৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মরিচের চাষাবাদে চাষিদের ভাগ্য ঘুরছে যাচ্ছে। চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে কাঁচা মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই মরিচ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। চাষিরা দামও পাচ্ছেন ভালো। মরিচ চাষাবাদের জন্য বিখ্যাত দিনাজপুর সদর উপজেলা, কাহারোল, বিরল, খানসামা চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, বীরগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন জাতের কাঁচা মরিচের চাষ করা হয়েছে। তবে নতুনভাবে এই মরিচের চাষ শুরু হওয়ায় এবার অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে। মরিচ খেতের পরিচর্যা, মরিচ তোলা ও বিক্রি নিয়েই এখন সময় পার করছেন এসব গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক।
আষাঢ় মাস থেকে মরিচ তোলা শুরু হয। অগ্রায়হণ মাস পর্যন্ত চলতে থাকে মরিচ তোলা। বীজ এলাকাবাসী জানান, বাপ-দাদাদের আমল থেকে এ এলাকার কৃষকরা মরিচের চাষ করে আসছেন। মরিচই এলাকার কৃষকদের প্রধান ফসল।
মরিচ চাষিরা জানান, বীজ সংরক্ষণের জন্য খেতের পাকা মরিচ (টোপা) সংরক্ষণ করা হয়। টোপা রোদে শুকিয়ে ড্রামের মধ্যে রেখে বীজ সংরক্ষণ করা হয়। বপনের মৌসুমে প্রতি কেজি বীজ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
মুকুন্দপুর গ্রামের মরিচ চাষি মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি চাষ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরইমধ্যে অর্ধলাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। আশা করছি, আরও অর্ধ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব।’ কৃষক রমজান আলী জানান, গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে এবার রোগ-বালাই তেমন একটা না হলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে গোড়া পচা রোগ হয়েছিল। তারপরও ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুর জেলায় ৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে মরিচের রোপণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার মরিচ উৎপাদন হবে ১৪০ হাজার ৯৫৬ মেট্রিক টন।