ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঢাবিকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাবিকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার মান আরও বাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়; দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। গতকাল রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি। নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়েই এটি ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে বিরোধীদল ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ ও বিরোধীদলকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়াই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে কার্যকরভাবে চলতে দিতে হবে।

সাক্ষাৎকালে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী ও প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন। সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির :

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন। সকলের ঐক্যের ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এদেশের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন রয়েছে। এ সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি পশ্চাৎপদ মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং এক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সকলের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। তবে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে নিরলসভাবে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান প্রতিনিধিদল। জবাবে তিনি পরিদর্শনের আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন মধ্যে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত