ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

খুলনার বাবা-মেয়ে হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টেও বহাল

খুলনার বাবা-মেয়ে হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টেও বহাল

খুলনার বহুল আলোচিত এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা এবং ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নিম্ন আদালতের দেয়া ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড হাইকোটেও বহাল রাখা হয়েছে। তবে, ধর্ষণ মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের ২৯ নম্বর বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে. এম. রাসেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো। বাদির পক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা সমন্বয়কারি এড. মোমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলো- লবণচরা বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকার আব্দুল জলিলের দুই ছেলে পিটিল ও শরিফুল। একই এলাকার মৃত শিকদারের ছেলে পলাশ এবং অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ ও লিটন। আসামিরা কারাগারে রয়েছে। এরআগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক, বর্তমানে খুলনা মহানগর দায়রা জজ মো. মহিদুজ্জামান দুই মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স নং ৭৬/২০১৯ ও ৭৭/২০১৯ এবং আসামিদের আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করেন।

বাদির পক্ষের আইনজীবী এড. মোমিনুল ইসলাম রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ রায় শুধু একটি মামলার রায় নয়; এটি একটি পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফল। একই সঙ্গে এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- ন্যায়বিচারের পথ কখনো কখনো দীর্ঘ হয়, কঠিন হয়, কিন্তু আইনের প্রতি আস্থা ও ধৈর্য ধরে সেই পথে চলতে হয়। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়কে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করছি। একই সঙ্গে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিচারপতিগণ, বাদী ও সকল আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভী (রহ.) দরগাপাড়া এলাকার ‘ঢাকাইয়া হাউস’-এ সংঘবদ্ধভাবে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর তাকে এবং তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে গুমের চেষ্টা চালানো হয়। নিহত পারভীন সুলতানা এক্সিম ব্যাংকের খুলনা কালীবাড়ি শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত