ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে নিত্যপণ্য

প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে নিত্যপণ্য

বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই মিলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য- এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের হাজারো মানুষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার' কর্মসূচিতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল শনিবার কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অস্থায়ী বাজার বসে। পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। 'বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার' নাগরিকদের সেই অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল।' তিনি বলেন, ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হয়। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে একদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়তা হবে, অন্যদিকে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগকে পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, শিগগিরই ডিএসসিসির উদ্যোগে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডেও 'বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার' কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ 'বই পড়ার বিনিময়ে খাবার' কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ সময় কামরাঙ্গীরচরবাসীর প্রতি বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, নদী দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশীদার করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, গত দুই বছরে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত