
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আবারও লটারি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ার আনুপাতিক হারে বরাদ্দ না হয়ে, পূর্বের মতো বিনিয়োগকারীদের অংশ লটারির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অফ ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫ এর ওপর এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাছান মাহমুদ, পরিচালক মো. আবুল কালাম, অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির এবং যুগ্ম পরিচালক শরিফুল আলমসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইপিওর সংশোধিত বিধির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়। এতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আইপিওতে আগের মতো লটারি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার তথ্য জানানো হয়। এর আগে আইপিওতে লটারি প্রথা বাতিল করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও জমা অর্থের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ করা হতো। আর এ জন্য আইপিওর শেয়ারের আবেদনের ক্ষেত্রে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংশোধিত আইপিও বিধি অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারবে না। আর আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোকে তার মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। আইপিও-পরবর্তী কোম্পানির মূলধন হতে হবে ৫০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৩০ কোটি টাকার মূলধনের কোনো কোম্পানি বাজারে আসতে চাইলে ওই কোম্পানিকে আইপিওতে ন্যূনতম ২০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়তে হবে।
তবে ভালো মৌলভিত্তির বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে এই শর্ত কিছুটা শিথিল থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুঁজিবাজারে আইপিওতে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জকে অধিকতর ক্ষমতাশালী করা হয়েছে। আইপিওতে আসতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর প্রসপেক্টাস বা বিবরণীর ওপর বস্তুনিষ্ঠ যেকোনো মতামত দিতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ। এমনকি কোম্পানির কারখানা ও কার্যালয় পরিদর্শনেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জকে। স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে মতামত দিলে ওই কোম্পানি সেই মতামতের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে আপিলের সুযোগ পাবেন।