
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে খেলতে নেমে গোল করছেন, গোটা গ্যালারি গর্জন করছে। অপার্থিব এক অনুভূতি। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার দিনগুলি থেকেই এমন ছবি নিশ্চয়ই হৃদয়ে অনেকবারই এঁকেছেন গন্সালো গার্সিয়া। উদযাপনের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন কল্পনার চোখে। সেই স্বপ্নগুলোই সত্যি হলো এবার। শুধু একটি গোল নয়, লা লিগায় প্রথম গোল পাওয়ার দিনটি তিনি রাঙালেন স্মরণীয় এক হ্যাটট্রিকে। লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে গত রোববার রিয়াল মাদ্রিদের ৫-১ গোলের জয়ে চোখধাঁধানো এক হ্যাটট্রিক উপহার দেন গার্সিয়া। তার প্রথম গোলটি ছিল বুক দিয়ে বল নামিয়ে দারুণ এক ভলিতে। পরেরটি করেন দৃষ্টিনন্দন ব্যাক ফ্লিকে। শেষটি হেড থেকে। সব মিলিয়ে বলা যায় পরিপূর্ণ এক হ্যাটট্রিক।
তার জন্ম মাদ্রিদেই, ২০০৪ সালে। ১০ বছর বয়সে পা রাখেন রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে। জায়গা করে নেন রিয়ালের যুব দলে। ২০১৮ সালে তার পরিবার মায়োর্কায় চলে গেলে তিনিও রিয়াল মায়োর্কার যুব দলে চলে যান। তবে এক বছর পরই ফিরে আসেন প্রিয় ক্লাবে। রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়া বা ‘বি’ দলে জায়গা করে নেন। কাস্তিয়ার হয়ে গোলের রেকর্ডও করেন। মূল দলে তার অভিষেক হয় ২০২৩ সালে। তবে স্রেফ একটু-আধটু সুযোগ মিলছিল। গত ক্লাব বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে দারুণ পারফরম্যান্সে নজর কাড়লেন। তার পরও তারকায় ঠাসা রিয়াল মাদ্রিদে নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। লা লিগায় প্রথম গোলের অপেক্ষাও বাড়ছিল।
অবশেষে নতুন বছরের প্রথম ম্যাচে প্রিয় আঙিনায় সেই অপেক্ষার শেষ হলো। গার্সিয়া তাতে দারুণ উচ্ছ্বসিত। ‘এই মুহূর্তে আমি খুবই খুশি। বছরের শুরুটা দারুণভাবে হলো। তিনটি গোলই স্পেশাল। মৌসুমে প্রথম গোলের দেখা পেলাম, বের্নাবেউয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক হলো।’ এই ম্যাচেও হয়তো তার মাঠে নামা হতো না, যদি কিলিয়ান এমবাপে ফিট থাকতেন। তবে রিয়ালের মতো দলের বাস্তবতা বোঝেন গার্সিয়া। ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বললেন, তার চেষ্টা থাকবে সুযোগ পেলেই কাজে লাগানোর। ‘এমবাপ্পে এখন বিশ্বের সেরা ফুটবলার। আমাদেরকে অনেক গোল এনে দেয় সে। আমার সতীর্থরা ও কোচ আমাকে অনেক প্রেরণা জুগিয়েছে ও ভরসা রেখেছে। আমি চেষ্টা করেছি মাঠে নেমে সেরাটা দিতে। আমরা জানি, রিয়াল মাদ্রিদে চাহিদা কতটুকু থাকে। আমার সামনে আছে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। পরিস্থিতি আমি বুঝি, নিজেকে নিয়েই চিন্তা করি, প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করি এবং কোচ যখন সুযোগ দেন, প্রতিটি মিনিট সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।’
ক্লাব বিশ্বকাপে গার্সিয়াকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন কোচ জাভি আলোন্সোই। সেই কোচই তাকে যথেষ্ট বেশি সুযোগ দিতে পারছেন না লা লিগায়। তবে সেটা দলীয় সমন্বয়ের কারণেই। এমনিতে গার্সিয়ার প্রতিভা ও পরিশ্রমে মুগ্ধ কোচ। ‘গন্সালোর অবশ্যই স্বপ্নের এক ম্যাচ কেটেছে। বের্নাবেউয়ে প্রথম মৌসুমেই দারুণ হ্যাটট্রিক করেছে। গোল করতে সে মুখিয়ে ছিল। তার জন্য আমি খুবই খুশি। প্রতিটি দিন সে খুব ভালোভাবে কাজ করে। খেলার সুযোগ পাক বা না পাক, তার মানসিকতা দারুণ। মাদ্রিদের তরুণ একজন ফুটবলার কেমন হতে পারে, সেটির উদাহরণ সে। তাকে আমি অনেক শুভেচ্ছা জানাই। এই সুযোগটা তার প্রাপ্য ছিল। আশা করি, সে এটা ধরে রাখবে।’