ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অস্ট্রেলিয়ায় আত্মবিশ্বাসী মনিকারা

অস্ট্রেলিয়ায় আত্মবিশ্বাসী মনিকারা

প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের আসর। গতকাল রোববার পার্থে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠে এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ এই টুর্নামেন্টের। জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী মঙ্গলবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক এক ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে এটিই লাল সবুজ দলের প্রথম ম্যাচ। চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন পিটার বাটলারের শিষ্যরা। বাংলাদেশের অপর প্রতিপক্ষ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। এমন দলের বিপক্ষে ময়দানী লড়াইয়ে রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণেও অবদান রাখার লক্ষ্য জানালেন মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা। মারিয়া-স্বপ্নাদের নিয়ে মাঝমাঠ জমাট রাখার পণ তার। সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে ছোট-ছোট ছয়টি পোস্ট সাজিয়ে, কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শুরু হয় শুটিং অনুশীলন। মানিকা চাকমাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যভেদ করলেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। পাল্টা দিতে দেরি করলেন না মনিকাও। কয়েকজনকে কাটিয়ে আফঈদা খন্দকারকে বোকা বানিয়ে গোল করলেন তিনি। এমন প্রস্তুতি শেষে দুটি নারী সাফ জয়ী এই মিডফিল্ডারও বললেন, মূল লড়াইয়ে মাঝমাঠে তাদের আলো ছড়াতে হবে এমন করেই। কমব্যাংক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নারী এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের পথচলা শুরু করবে বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতা চীন রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে এই প্রথম এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে পা রাখবে বাংলাদেশ। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখছেন না ব্রিটিশ কো পিটার জেমস বাটলার। গত রোববার সকাল ৯টায় দল নিয়ে জুবিলি স্টেডিয়ামে পৌঁছে নেমে পড়লেন অনুশীলনে। দেড় ঘণ্টার প্রস্তুতি সেরে মনিকা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এলেন দলের প্রতিনিধি হয়ে। কণ্ঠে দৃঢ়তা নিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টার একবিন্দু ত্রুটিও রাখবেন না তারা। মনিকার কথা, ‘আমরা ওদের সঙ্গে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেহেতু ওদের সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছে, আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাব। আর মিডফিল্ডের কথা বলতে গেলে- আমরা যখন খেলব, তখন সবকিছু মেইনটেইন করে কার কী দায়িত্ব, সেটা পালন করে খেলার চেষ্টা করব।’ তিনি যোগ করেন, ‘অবশ্যই, কোচের পরিকল্পনার বাইরেও আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ থাকে। যেমন মারিয়া উপরে চলে গেলে আমার মিডফিল্ড হোল্ড করে রাখতে হয়। এই বিষয়গুলো আমরা নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেশন করে খেলছি। যেহেতু ওরা শক্তিশালী দল, তাই আমরা সব দিক দিয়ে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। শুধু মিডফিল্ড নয়, আমাদের স্ট্রাইকার, ডিফেন্ডার এবং গোলকিপার-সব বিভাগকেই মেইনটেইন করতে হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুত।’ মনিকাদের প্রস্তুতি মূলত বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার। নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে থাকা আরেক দল উত্তর কোরিয়া প্রতিযোগিতার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তানও ঢের এগিয়ে। মনিকা জানালেন, পরিস্থিতি বুঝে খেলবেন তারা। তার কথা, ‘যেহেতু ওরা অনেক ভালো দল এবং ওদের সঙ্গে আগে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাই মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে আমাদের খেলতে হবে। আমরা অনেকদিন ধরে এখানে আছি। আমরা এই আবহাওয়ার সঙ্গে এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আমরা এখানে ভালো প্র্যাকটিস করছি। দিন দিন আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে টিম ভালো আছে।’ দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ সম্পর্কে মনিকার কথা, ‘যেহেতু চীন ও উত্তর কোরিয়া এশিয়ার মধ্যে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাই আমাদের প্রতিদিন মিটিং হয় এবং ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে এবং মাঠে কীভাবে খেলতে হবে- এগুলো আমাদের মিটিংয়ে বলা হচ্ছে এবং আমরা মাঠেও সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিয়েই সারাক্ষণ ভাবনায় ডুবে থাকছেন না বলেও জানালেন মনিকা। লক্ষ্য যেহেতু নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর, সেদিকে মনোযোগ তাই বেশি থাকছে বলে জানালেন এই তারকা মিডফিল্ডার। তার কথায়, ‘আমাদের গোলকিপার থেকে স্ট্রাইকার পর্যন্ত সবাইকেই শক্তিশালী হতে হবে। তাই গোলকিপার থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার পর্যন্ত সব বিভাগেই আমাদের কাজ চলছে। অবশ্যই আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফলাফল যাই হোক, আমরা আমাদের সেরাটাই দেব।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত