ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সেমিফাইনালে কখনও হারেনি আর্জেন্টিনা

সেমিফাইনালে কখনও হারেনি আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যেখানে পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, সেটি হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় উৎস। আর্জেন্টিনার জন্য সেমিফাইনাল ঠিক তেমনই একটি মঞ্চ। অতীতের সাফল্য আর বর্তমানের দারুণ ছন্দ মিলিয়ে এবারও ফাইনালের স্বপ্ন বুনছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে সামনে দাঁড়িয়ে আছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াই ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ফিরতে চাওয়া ইংল্যান্ড।

এই ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাস। বিশ্বকাপে যতবার শেষ চারে উঠেছে আলবিসেলেস্তারা, ততবারই তারা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এখনো হারেনি আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে বেলজিয়ামকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে আবারও ফাইনালে ওঠে দলটি। সেই আসরেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আলবিসেলেস্তারা। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে কঠিন সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকলেও টাইব্রেকারে গোলরক্ষক সার্জিও গয়কোচিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দেয় ফাইনালে। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

সেই ম্যাচে গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর দুটি দুর্দান্ত সেভ ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আরও একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল স্কালোনির দল। লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেসের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সেদিন একতরফা জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। পরে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে তারা। এবারও সেই ইতিহাসকে সঙ্গী করেই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তাই অতীতের পরিসংখ্যান আত্মবিশ্বাস দিলেও, ফাইনালে উঠতে হলে স্কালোনির দলকে খেলতে হবে নিজেদের সেরা ফুটবল। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার ঐতিহ্য ধরে রেখে আর্জেন্টিনা আরেকবার ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে কি না, নাকি সেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত